
জাহিদ হাসান ॥
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দ্যাইনা ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীতে বাংলা ড্রেজারে মাধ্যমে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। সদর উপজেলার দ্যাইনা ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদী থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার নদী এলাকা জুড়ে ৪টি বাংলা ড্রেজারে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এতে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সদ্য নির্মিত হওয়া এবং অনেকটি পরিবারের জন্য নবনির্মিত গুচ্ছ গ্রামের সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো।
ইতোমধ্যে বন্যায় ব্যাপক ভাঙন কবলিত হয়েছে এই ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো। ভাঙনে গ্রামবাসী হারিয়েছেন শত শত একর আবাদী জমি। ইউনিয়নের প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ড্রেজারগুলো চলমান থাকায় প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না গ্রামবাসী। একইভাবে সদর উপজেলার দ্যাইনা ইউনিয়নের আলশাকান্দা গ্রামের ধলেশ্বরী নদীর অংশেও চলমান রয়েছে একাধিক বাংলা ড্রেজারগুলো।
জানা যায়, সদর উপজেলার দ্যাইনা ইউনিয়নের ধলেশ্বরী থেকে ঢালান শিবপুর নদীর এলাকা জুড়ে অবাধে চলছে ৪টি বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন। বছর জুড়ে বালু উত্তোলন আর বিক্রি চলমান থাকলেও প্রশাসনের নেই কোন পদক্ষেপ। রুবেল নামে এই বালু ব্যবসায়ী ধলেশ্বরী নদীর আলশাকান্দা এলাকায় চালাচ্ছে অবাধে বালু উত্তোলন। সে নদীর ধলেশ্বরীতে শ্যামার ঘাট ব্রিজ থেকে একশ’ মিটার দূরত্বে বাংলা ড্রেজার রয়েছে। সদ্য নির্মিত বসত বাড়ি পাশে রয়েছে গুচ্ছে গ্রাম। এর কাছ থেকেই অবৈধভাবে ড্রেজারে বালু উত্তোলন করছেন। এছাড়াও ঢালান শিবপুর ধলেশ্বরী নদীর অংশেও অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছেন। অবৈধ এই বালু ব্যবসায়ীরা নদীর আশেপাশের গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও পুকুর ভরাট করার চুক্তি নিচ্ছেন।
স্থানীয় ও গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, অবৈধ এই বাংলা ড্রেজারে বালু উত্তোলনের ফলে তাদের ফসলী জমি, বসতভিটা ও গাছপালা নদী ভাঙনের কবলে পরেছে। গত ৪ বছর যাবৎ নিয়মিতভাবে অবৈধ এই ড্রেজার চললেও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কোন উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। তবে মাঝে মাঝে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন এসে ড্রেজারের পাইপ ভাংচুর করলেও পরদিন থেকেই আবার তা পুণরায় চালু হয়েছে এই ড্রেজার ব্যবসা। এভাবে নিয়মিত ড্রেজার চালু থাকায় দিনদিনই বাড়ছে নদীর আশেপাশের এলাকায় বসতবাড়ি ভাঙনের শঙ্কা। সদর উপজেলার দ্যাইনা ইউনিয়নের শ্যামার ঘাট ধলেশ্বরী জুড়ে ৪টি বাংলা ড্রেজারে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এতে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সদ্য নির্মিত হওয়া এবং অনেক পরিবারের জন্য নবনির্মিত গুচ্ছ গ্রামের আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলো। ইতোমধ্যে বন্যায় ব্যাপক ভাঙন কবলিত হয়েছে এই ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো। ভাঙনে গ্রামবাসী হারিয়েছেন শত শত একর আবাদী জমি। ইউনিয়নের প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ড্রেজারগুলো চলমান থাকায় প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না গ্রামবাসী।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন উপজেলায় ড্রেজার বন্ধে প্রশাসন নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সদর উপজেলায় কেন নেয়া হচ্ছে না এ ধরণের কোন পদক্ষেপ। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থায়ীভাবে বাংলা ড্রেজার বন্ধের দাবি জানান ঢালান শিবপুরসহ গ্রামবাসীরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে কতিথ বালু ব্যবসায়ী রুবেল উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি বক্তব্য দিব কেন প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই করছেন বালু উত্তোলন আর বিক্রি। আপনেরা যত পারেন ভিডিও করেন ছবি তুলেন কোন সমস্যা নাই। কার অনুমতিতে এই বালু উত্তোলন করছেন এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। বন্ধ না হওয়ার ফলে এ ইউনিয়নে প্রতিনিয়তই বাড়ছে ড্রেজার ব্যবসায়ীর সংখ্যা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান বিন মোহাম্মদ আলী বলেন, নদীতে বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করার বিষয়টি আমাদের কেউ জানায়নি। অবৈধ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে কেউ যদি বালু উত্তোলন করে থাকেন তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।