
নাগরপুর প্রতিনিধি ॥
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম ও সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে নাগরপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত উপজেলা পরিষদ মিলয়াতনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭ তম জম্মদিনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন স্থানীয় সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটু। এমপি টিটুর উপস্থিতিতে সভায় বক্তৃতা কালে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গয়হাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামছুল হক। তার ৩.৩৮ সেকেন্ডের এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রয়ার পাশাপশি উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে চলছে পক্ষে বিপক্ষে নানা সমালোচনা।
সূত্রে জানা যায়, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম ও সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলীর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে দ্বন্দ চলে আসছে সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে। দ্বন্দ আরো স্পষ্ট ও প্রকট হয় গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভাকে ঘিরে। উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ জনসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং টাঙ্গাইলের সংসদীয় ৮টি আসনের সকল সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশিরা। এর পর থেকে এমপি টিটু ও উপজেলা জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম ও সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলীর অনুসারিরা পক্ষে বিপক্ষে কাঁদা ছুড়াছুড়ি ও বিষদাগার শুরু করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সরকারি যদুনাথ পাইলট মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করেন নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ। এতে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তারেক শামস হিমু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম ইউলিয়াম, সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলী, ডাকসুর সাবেক নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাজী এ.টি.এম. আনিসুর রহমান বুলবুল প্রমুখ।
এদিন বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলয়াতনে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের পৃথক আয়োজন করেন সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি, উপজেলা আওয়ামীগের সহ-সভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামান মনি, আনিসুর রহমান আনিস, সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাড. দাউদুল ইসলাম দাউদ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছবুর, আব্দুল আলিম দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীদুল ইসলাম অপু, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, শেখ সামছুল হক, ত্রাণ ও সমাজকল্যান সম্পাদক উজ্জল মোল্লা, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বারব আল- মামুন, সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি আজিম হোসেন রতন, সাধারণ সম্পাদক সজিব মিয়া প্রমুখ।
অবাঞ্চিত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলী জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম ও সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দল আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী ও গতিশীল। প্রস্তাবিত সাংগঠনিক সম্পাদক সামছুল হক নির্বাচিত সভাপতি ও সম্পাদককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার একতিয়ার রাখে না। সে (শেখ সামছুল হক) এক ব্যক্তির ব্রোকার (দালাল) হিসেবে কাজ করছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে হরিণের নির্বাচন করেছে। তার ভালো না লাগলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারে। তার কথা অর্বাচীন ও দৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই না। এতে আমাদের কিছু যায় আসে না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সামছুল হক বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইলের ৮ এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাম্পাদক এর সমাবেশ যারা মানে নাই তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে।