
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলে লাভ হয় প্রশাসন আর রাজনৈতিক দলের নেতাদের। অভিযান হয়, দুই চারদিন বন্ধ রাখতে হয়। আবার শুরু করি। লাভ কি লিখে, বন্ধ রাখলে আমাদের ক্ষতি হয়। তার চেয়ে আমাদের কথা শুনেন। আপনার সাথেও কথা বলি। এর আগে পত্রিকায় লিখেছেন, অভিযান হয়েছে। এরপর সবার সাথে কথা বলে আবার চালু করেছি। নদীর পাশে জমি কিনে বালু তুলছি আমরা। মাঝে মধ্যে মেডাম আসে, দেখে চলে যায়। এভাবেই চলছি। বালু তোলার সাথে জড়িত সেলিম নামে এক যুবক এসব কথা বলেন। তার এই ব্যবসার সাথে লিপু, ইলিয়াস মল্লিক, বাবুল, রিয়াজ মল্লিক, ছানোয়ার ও সুরুজ মল্লিক জড়িত বলে জানান।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের চান্দুুলিয়া দস্তরিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লৌহজং নদী থেকে একটি ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে বাল্কহেড ভর্তি করা হচ্ছে। পাশে আরও তিনটি বাল্কহেড বালু নেয়ার জন্য রাখা হয়েছে। প্রতি বাল্কহেড বালু ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। প্রতিটি বাল্কহেড ভর্তি করতে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে বলে জানা গেছে। এতে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি ভাঙনের কবলে পড়ে। এছাড়া সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া ধলেশ্বরী শাখা বংশী নদীর গবড়া এলাকায় একইভাবে বালু তুলছেন ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের ছোট ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক বিপ্লব মিয়া।
জানা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় বর্ষার শুরু হতে লৌহজং নদীর বহুরিয়া, চান্দুলিয়া দস্তরিপাড়া, চান্দুলিয়া ঘোষপাড়া, আনাইলবাড়ী ও গেড়ামাড়া উত্তর এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে সেলিম, ইলিয়াস মল্লিক, সুরুজ মল্লিক, বাবুল, সারোয়ার মল্লিক, ছানোয়ার, আব্বাস, আজিজ ও লিপু বালু উত্তোলন শুরু করে। তারা প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু তুলে বাল্কহেড ভর্তি করে অন্যত্র বিক্রি করে থাকেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে গত (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সূচী রানী সাহা চান্দুুলিয়া দস্তরিপাড়া এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালান। ভ্রাম্যমান আদালতের খবর পেয়ে বাল্কহেড ও চলন্ত ড্রেজার নিয়ে বালু লুটেরা পালিয়ে গেলেও স্থায়ী একটি ড্রেজার ভাংচুর করা হয়। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর গত দুই সপ্তাহ ধরে পুণরায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলা হচ্ছে। ওই বালু বাল্কহেড ভর্তি করে অন্যত্র বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বালু লুটেরা। এতে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। অভিযানের পর পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু হওয়ায় এলাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া ধলেশ্বরী শাখা বংশী নদীর গবড়া এলাকায় ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের ছোট ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক বিপ্লব মিয়াও দীর্ঘদিন ধরে বালু তুলে অন্যত্র বিক্রি করছেন। অভিযোগ দেয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন ওই এলাকায় অভিযান চালান না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। বাল্কহেডের শ্রমিক হাসেম মিয়া টাঙ্গাইল নিউজকে জানান, তার বাড়ি ভূঞাপুর। চেয়ারম্যানের ভাই বিপ্লব বালু তুলার জন্য মালিকের কাছ থেকে ভাড়া এনেছেন। আমরা মজুরি হিসেবে প্রতি টিপে ৫০০ টাকা করে পায়। দিনে দুইটি টিপ দিতে পারেন বলে জানান। বালু ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া টাঙ্গাইল নিউজকে জানান, আমরা কয়েকজনে নদীর পারের জমি কিনে ওই জমি থেকে বালু তুলছি। মাঝে মধ্যে মেডামরা আসেন দেখে আবার চলে যান। আপনারা লিখলে আমাদের অসুবিধায় পড়তে হয়। লাভ হয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের। না লিখলে ভালো হয়।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা বিনতে মতিন টাঙ্গাইল নিউজকে জানান, লৌহজং ও বংশী নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।