
নাগরপুর প্রতিনিধি ॥
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম ও সাধারন সম্পাদক কুদরত আলীকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা সেই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গয়হাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামছুল হক কে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে । মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের এক বিশেষ জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, শিষ্টাচার বহির্ভুত ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কুদরত আলী।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাগরপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত উপজেলা পরিষদ মিলয়াতনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭ তম জম্মদিনের আলোচনা সভায় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সামছুল হক তার বক্তব্যে আ.লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেন । এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন স্থানীয় সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটু। তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রয়ার পাশাপশি উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে পক্ষে বিপক্ষে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি করে। অবাঞ্চিত ঘোষনার ৩ দিন না পেরুতেই আলোচিত ও সমালোচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সেই সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সামছুল হকের উপর বহিস্কারের খড়গ নেমে আসলো।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান কুদরত আলী বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত ৩ নং সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সামছুল হক উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্ব মানেন না। সভাপতি ও সম্পাদককে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে তার দেয়া বক্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, শিষ্টাচার বহির্ভুত ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি। জরুরি সভায় তাকে সাময়ীক বহিস্কার করা হয় এবং স্থায়ী বহিস্কারের জন্য জেলা ও কেন্দ্র কমিটিতে সুপারিশ পাঠানো হবে।
বহিস্কারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সামছুল হক বলেন, বহিস্কারের বিষয়টি আমি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। উপজেলা আওয়ামী লীগ আমাকে বহিস্কারের এখতিয়ার রাখে না। গঠনতন্ত্রের কোথাও উপজেলা আওয়ামী লীগকে এ ক্ষমতা দেয়া হয়নি। কেবল জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ বহিস্কার করতে পারে। এছাড়া আমাদের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু ও কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক কে নিয়ে অশালনি মন্তব্য করায় আমি তাদের কে অবাঞ্চিত ঘোষনা করছি।