
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ছোট বোনের ডিফোর্সের টাকার ঘটনা নিয়ে ছুরির আঘাতে বড় ভাই আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ছুরির আঘাতে আহত আলআমিনের বন্ধু নাইম নামে এক যুবককে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তফি নামের এক যুবক দুইজনকে চাকু দিয়ে আঘাত করলে এ ঘটনা ঘটে।
পুুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুণটিয়া বাকালী পাড়ার বাদশা মিয়ার মেয়ে মীমের পার্শ্ববর্তী উপজেলার কালিয়াকৈর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। এ নিয়ে আলআমিন, তার বন্ধু একই এলাকার আমিনুরের ছেলে নাইম ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনের নাতি তফিকে নিয়ে কালিয়াকৈরে একাধিকবার সালিস বৈঠক করেন। ডিফোর্স করিয়ে দিবে বলে তফি কৌশলে মীমের স্বামীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু আলআমিন এ টাকার বিষয়ে অবগত না হয়েই বোনকে দিয়ে ডিফোর্স করান।
গত সোমবার (১৬ অক্টোবর) মীমের স্বামী পাকুল্যা আসেন এবং আলআমিনকে বলেন বোনকে ডিফোর্স করিয়ে দুই লাখ টাকা নেয়ার পর ভাড়া সিএনজি চালান কেন। এ কথার পর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে আলআমিন জানতে পারেন বোনকে ডিফোর্স করিয়ে দেয়ার কথা বলে তফি মীমের স্বামীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে পাকুল্যা এলাকায় আলআমিন তফির গলায় গামছা দিয়ে টেনে হেচড়ে অপমান করেন এবং টাকা ফেরত চান। এ বিষয়টি তফি ভালোভাবে না নিয়ে বুধবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে কোমড়ে চাকু নিয়ে আলআমিনকে খুঁজতে থাকেন। সন্ধ্যায় তাদের দেখা হওয়া মাত্র তফি আলআমিনকে চাকু দিয়ে পেটে আঘাত করেন। এ সময় পাশে থাকা নাইমকেও চাকু দিয়ে পেটে আঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর কিছুক্ষণ পর রাত আটটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলআমিনের মৃৃত্যু হয়। এদিকে নাইমের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, বোনের ডিফোর্সের টাকার বিষয়ে দুইজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তফি নামের এক ছেলে দুইজনকে আঘাত করে। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু এবং অপরজনকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। অপরাধীকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।