
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের কবিরাজ মাসুদ মিয়ার তৈরি গাছ-গাছরার ওষুধে টাক মাথায় চুল গজানো, চুল পড়া বন্ধসহ অল্প বয়সে সাদা হওয়া চুল কালো হচ্ছে। উপকারভোগী রোগীদের বক্তব্যে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। উপকারভোগীদের প্রচারণায় এখন বিভিন্ন স্থান থেকে নতুন রোগীরাও আসছেন মাসুদ মিয়ার চিকিৎসা নিতে। এর ফলে টাঙ্গাইল পৌর শহরের কাগমারীর মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ মোড়স্থ মাসুদ মিয়ার কবিরাজ বাড়িতে প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন নতুন রোগীর ভিড়। ৪০ বছরের নিচের এ ধরণের সমস্যাগ্রস্থ রোগীদের শতভাগ সুফলের নিশ্চয়তা দিলেও ৫০ অথবা তদুর্দ্ধো রোগীদের সুফল অনেকটাই কম বলে জানিয়েছেন কবিরাজ মাসুদ মিয়া।
টাঙ্গাইল পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাগমারী এলাকার সামাদ মিয়ার ছেলে কবিরাজ মাসুদ মিয়া (৫০)। বিগত ২০০৬ সাল থেকে শুরু করেছেন চিকিৎসা সেবা। গাছ, গাছরা, খাদ্য, পুষ্টি ও ওষুধের ব্যক্তিগত জ্ঞান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে তার এই চিকিৎসা কার্যক্রম। গাছের মূল, ছাল, লতা, পাতা, ফুল, মধুসহ নানা ধরণের প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করছেন তিনি সকল প্রকার ওষুধ। ময়মনসিংহ ইউনানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কিছুদিন লেখাপড়া করাসহ বগুড়া থেকে তিন মাসের ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক এর একটি সট কোর্স গ্রহণ করা ব্যতিত এ বিষয়ে তেমন কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই তার। তবে এরই মধ্যে তার দেয়া চিকিৎসায় ডায়াবেটিস ও প্যারালাইসিসের অসংখ্য রোগী সুস্থ আছেন এমন তথ্য দিয়েছেন উপকারভোগীরা। এছাড়াও বিগত ২০২১ সাল থেকে শুরু করেছেন টাক মাথায় চুল গজানো, চুল পড়া বন্ধসহ অল্প বয়সে সাদা হওয়া চুল কালো করার চিকিৎসা। প্রচার না থাকা সত্ত্বেও এরই মধ্যে এ চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন ২০/২৫জন রোগী। সুফল ভোগ করছেন চিকিৎসা নেয়া প্রায় প্রতিটি রোগীই।
টাক মাথায় চুল গজানো, চুল পড়া বন্ধসহ অল্প বয়সে সাদা হওয়া চুল কালো করার চিকিৎসায় কবিরাজ মাসুদ মিয়া ব্যবহার করছেন ডাবের পানি, মেথি, পেঁয়াজ, কাজু বাদাম, জলসিঙ্গারা, ঘেঁচুসহ বিভিন্ন ধরণের গাছ গাছরা। দেখা গেছে, ডাবের পানি, মেথি, পেঁয়াজ, কাজু বাদাম, জলসিঙ্গারা, ঘেঁচু, মেহেদী পাতার চুর্ণসহ বিভিন্ন ধরণের গাছ গাছরার রস দিয়ে নিজেই তৈরি করছেন টাক মাথায় চুল গজানো, চুল পড়া বন্ধসহ অল্প বয়সে সাদা হওয়া চুল কালো করার ওষুধ। তরল ওষুধ কলা পাতার উপর শুকানো হচ্ছে। শুকানোর পর ওষুধ ঠেঁকি অথবা পাটায় পিসে বানানো হচ্ছে পাউডার। পাউডার বানানোর পরই সেটিতে আরও উপাদান মিশিয়ে প্রস্তুতকৃত ওষুধের ফাইল করে রোগীদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কাগমারী এলাকার রোগী মীম আক্তার বলেন, আমি টাইফয়েড জ¦রে আক্রান্ত হওয়ায় আমার মাথার তিন ভাগের দুই ভাগ চুল পড়ে গিয়েছিল। এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে আমি মাসুদ কবিরাজের তথ্য পাই। এরপরই আমি তার কাছে চিকিৎসার জন্য আসি। তিনি আমাকে ওষুধ ব্যবহার করতে দেন। নিয়মিত ব্যবহার করার কারণে দুই মাসেই আমি ফল পেয়েছি। কবিরাজ মাসুদের দেয়া ওষুধ আমি রাতে মাথায় মেখে ঘুমাতাম আর সকালে উঠে মাথা ধুয়ে ফেলতাম। এভাবে নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণের ফলে আমার চুল পড়া বন্ধ হয়েছে। নতুন চুল গজিয়েছে আর চুল আগের তুলনায় লম্বাও হয়েছে। সন্তোষ বালুচড়া গ্রামের রোগী মকবুল বলেন, কোন কারণ ছাড়াই আমার মাথার চুল পড়ে যাচ্ছিল। এ কারণে আমি মাসুদ কবিরাজের কাছে আসি। প্রায় মাসখানেক আমি মাথায় তার দেয়া ওষুধ ব্যবহার করি। এখন আমার মাথায় অনেক চুল গজিয়েছে। এ ধরণের রোগীদের আমি মাসুদ কবিরাজের চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।
প্রবাসী ও উপকারভোগী রোগী শরিফুল আরেফিন বলেন, আমার মাথার চুল প্রায়ই পড়ে গিয়েছিল। মাসুদ কবিরাজের এই চিকিৎসার কথা জানতে পেরে এখানে আসি। ওষুধ নিই এবং ভালো ফলাফল পেয়েছি। আমার মাথায় এখন অনেক চুল গজিয়েছে। চিকিৎসা নিতে আমার দুই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। শহরের দিঘুলিয়া এলাকার রোগী সজল বলেন, আমি একজন খেলোয়ার। ঘামে আমার মাথার চুল পড়ে যাচ্ছিল। এক বন্ধুর মাধ্যমে আমি মাসুদ কবিরাজের সংবাদ পাই। প্রায় একমাস হলো আমি চিকিৎসা নিচ্ছি। চিকিৎসায় ভালো ফলও পাচ্ছি। দ্বিতীয় ডোজ নিতে এসেছি। নাগরপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী জাহিদুল ইসলাম বলেন, চুল গজানো, চুল উঠা ও পেঁকে যাওয়াসহ ডায়াবেটিকের ভালো চিকিৎসা করছেন মাসুদ কবিরাজ এমন তথ্য পেয়ে আমি এখানে এসেছি। আমার মাথার চুল পড়ে যাওয়া বন্ধের জন্য তার চিকিৎসা নিব। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী নয়ন বলেন, অল্প বয়সে আমার মাথার চুল পেঁকে যাচ্ছে। বন্ধুদের অনেকেই চুল উঠার চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মাধ্যমেই আমি মাসুদ কবিরাজ কথা জেনেছি। এ কারণে আমি চিকিৎসা নিতে এসেছি।
কবিরাজ মাসুদ মিয়া বলেন, বিগত ১৯৯৮ সাল থেকে আমি চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত। টাইফয়েড জ¦রে আক্রান্ত হওয়ার কারণে আমার মাথার চুল পড়ে যায়। এরপর থেকেই আমি মাথায় চুল গজানোর জন্য অনেকের চিকিৎসা গ্রহণ করে ব্যর্থ হই। তবে আমি হাল না ছেড়ে এই চিকিৎসা প্রদ্ধতি খুঁজে বের করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাই। এক পর্যায়ে ২০২১ সালে সফল হই। প্রথমে আমি চিকিৎসা নিই ও আমার বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের চিকিৎসা চালাই। তিনি বলেন, আমার বয়স বেশী হওয়ার কারণে এ চিকিৎসার শতভাগ ফল না পেলেও আত্মীয়রা সুফল পায়। তাদের প্রচারণায় এখন আমার কাছে অনেক রোগী আসছেন। এদের অধিকাংশই শতভাগ ফলও পেয়েছেন। গাছ গাছরার ওষুধ হওয়ার কারণে এ চিকিৎসার ফল স্থায়ী।
কবিরাজ মাসুদ আরও জানান, চল্লিশের নিচে যাদের বয়স তারা নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার করলে শতভাগ ফল পাবেন। এছাড়াও যাদের বয়স পঞ্চাশ অথবা তদুর্দ্ধো তারা এ চিকিৎসার ফল কিছুটা কম পাবেন। এ ওষুধের প্রতি ফাইলের মূল্যে ১৫’শ টাকা। রোগের সময় অনুযায়ি কারো ২টি, কারো ৩টি আবার কারো কারো ৪টি ফাইলও লাগে। এ ওষুধ ব্যবহারের শুরুতেই মাথা ঠান্ডা হবে, মাথার অতিরিক্ত ঘাম সেটি থাকবেনা, এছাড়াও মাথা ব্যথা ও জ¦ালা যন্ত্রণা থাকবেনা। তিনি আরও জানান, বিগত ২০০৬ সাল থেকে রীতিমত শুরু করেছি আমার এই চিকিৎসা কার্যক্রম। গাছ, গাছরা, খাদ্য, পুষ্টি ও ওষুধের ব্যক্তিগত জ্ঞান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম। গাছের মূল, ছাল, লতা, পাতা, ফুল, মধুসহ নানা ধরণের প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয় আমার সকল প্রকার ওষুধ। আমার ওষুধ নিয়মিত খেয়ে অনেক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ডায়াবেটিস স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাশাপাশি আমার গাছ-গাছরার তৈরি মালিশ দ্বারা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত অনেক রোগীও ভালো আছেন।
এছাড়াও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা, হাড় জোড়া, শরীরে পানি আসা, জন্ডিস, পাইলস্, নতুন ও পুরাতন আমাশয়সহ কয়েকটি রোগের বিনামূল্যে চিকিৎসা করছেন বলেও জানিয়েছেন কবিরাজ মাসুদ মিয়া। কবিরাজ মাসুদ মিয়ার যোগাযোগ নম্বর-০১৭৪৫-৫৯৩০৯০/০১৮৪৯-১৩৮৫৫৮।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া জানান, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা স্বাস্থ্য সম্মত। সরকার এ বিষয়ের জন্য মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করেছেন। এছাড়াও যারা সট কোর্স করে এই চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তাদের জন্য পল্লী চিকিৎসকদের মত কিছু ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।