
জাহিদ হাসান ॥
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে টাঙ্গাইলের প্রেস পাড়ায়। নির্বাচনের পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট ছাপাতে শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন উপলক্ষে এ খাতে লেনদেন হতে পারে প্রায় দুই কোটি টাকা। যা আশানুরূপ নয় ব্যবসায়ীদের কাছে। এ নিয়ে কিছুটা হতাশ ব্যবসায়ীরা।
নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর থেকে প্রার্থীদের পোস্টার এবং হ্যান্ডবিল ছাপানোর কাজ চলছে পুরোদমে। সময়মত এসব পোস্টার, ব্যানার গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে দুই শিফটে কাজ করছেন শ্রমিকরা। ডিজাইনার থেকে শুরু করে ছাপাখানা সংশ্লিষ্ট কর্মী ও কাগজ বিক্রেতাসহ সবাই এখন ব্যস্ত। টাঙ্গাইল ছাপাখানার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এমএ ডিজাইনের স্বত্বাধিকারী আলী আজম বলেন, নির্বাচনের মৌসুম এলেও ব্যস্ততা বেড়েছে প্রেস পাড়ায়। একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে ছাপাখানার খরচও। ফলে সবকিছু মিলিয়ে লাভের পরিমাণ কম বললেই চলে। নির্বাচন কেন্দ্রিক ব্যস্ততা কেমন জানতে চাইলে প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী সোহেল খান বলেন, নির্বাচনী কাজের বেশ সাড়া মিলেছে। কিন্তু নির্বাচনে ব্যানারের সাইজ নিয়ে জটিলতা থাকার কারণে হঠাৎ করে ব্যানার তৈরিতে ভাটা পড়েছে। সব মিলিয়ে ব্যস্ততা আছে।
পিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন বলেন, প্রেস পাড়ায় ব্যস্ততা আছে। অন্যান্যবারের তুলনায় এবার সব কিছুর দাম বেশি। প্রতি হাজার পোস্টার করতে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হয়। যা আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এমন অবস্থায় শ্রমিকের খরচ বাদ দিয়ে লাভের অংকটা খুবই কম। নির্বাচন আসলেও আশানুরূপ ব্যবসা নেই বলছেন প্রেস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, পোস্টার ছাপালেও প্রার্থীরা আগের নির্বাচনগুলোর মতো প্রচারণায় তেমন মনোযোগ দেন না। অনেক প্রার্থীরা ঢাকার বিভিন্ন প্রেস থেকে পোস্টার ছাপিয়ে আনেন। তাই টাঙ্গাইলের প্রেসগুলোতে তুলনামূলক কম পোস্টার ছাপিয়ে কাজ সারেন প্রার্থীরা। অন্যদিকে প্রার্থী বেশি থাকলেও বড় দলের প্রার্থী কম হওয়ায় ভোটের মাঠে প্রতিযোগিতাও কম। আগে এক একজন প্রার্থী প্রায় ২-৩ লাখ পোস্টার ছাপাতেন। কিন্তু এখন প্রার্থীরা ৫০-৬০ হাজারের বেশি পোস্টার ছাপান না। যার প্রভাব পড়েছে প্রেসের ব্যবসায়।
একইভাবে ব্যবসার খারাপ অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রেস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, নির্বাচনের কারণে প্রেসে ব্যস্ততা আছে। তবে পোস্টারের চেয়ে ডিজিটার ব্যানারের দিকে ঝুঁকেছেন প্রার্থীরা। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে প্রকৃত প্রেস ব্যবসায়ীরা কাজ পাচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সেক্টরে যে পরিমাণ কাজ হওয়ার কথা ছিল সে পরিমাণ নেই। সব মিলিয়ে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মতো লেনদেন হতে পারে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় তা খুবই কম।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনে মোট ৫৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।