
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা ইউনিয়নের পায়লা গ্রামে অষ্টপ্রহর চলাকালে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে মারধর, বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃস্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে পৌর শহরের শ্রী শ্রী বড় কালীবাড়ীর সামনে ঘারিন্দা ইউনিয়ন গ্রামবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি করা হয়।
পয়লা মন্দির কমিটির সভাপতি ও মামলার বাদী দুলাল রাজবংশী বলেন শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে লীলাকীর্ত্তন চলাকালে হাবিব, রাজু ও পারভেজসহ ৭ জন যুবক প্রসাদ খেতে আসেন। তারা বারবার পায়েশ চান। কিন্তু ২/৩ বার পায়েশ দিলেও আরো খেতে চান। পরে পায়েশ না দেওয়ায় প্রসাদ বিতরণকারীর সাথে তর্ক-বিতর্ক হয়। এরপর ওই যুবকরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। হামলায় নারী পুরুষ শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এরমধ্যে গুরুতর আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুলাল রাজবংশী তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতংক রিবাজ করছে। সাথে সাথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে লীলা কীর্ত্তন অনুষ্ঠান। আমরা থানায় মামলা দায়ের করেছি। সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার চাই।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইল জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সমরেশ পাল, জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি পল্টন দত্ত বিপ্লব, পয়লা গ্রামের মন্দির কমিটির সভাপতি দুলাল রাজবংশী ও সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব সরকার প্রমুখ। এ সময় জেলার বিভিন্নস্থান থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েক শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, পায়েশ খাওয়া নিয়ে স্থানীয় কিশোরদের সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের এ অনাকাঙিত ঘটনা হয়েছে। হামলায় ৫ জন আহত হয়েছেন। ২০ জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। প্রত্যক্ষ জড়িত ২ জন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।