
সাদ্দাম ইমন ॥
টানা হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে পুরো টাঙ্গাইল জেলা। যত দিন যাচ্ছে সর্বনিম্ন্ন তাপমাত্রার পারদও নিম্ন্নমুখী হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ঘনকুয়াশা। এতে জেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আরও এক সপ্তাহ এ পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। রবিবার (২১ জানুয়ারি) জেলার বেশিরভাগ অঞ্চল ছিল ঘনকুয়াশার চাদরে ঢাকা। সূর্যের দেখা পাওয়া যায় কি যায় না। এর মধ্যে কয়েক স্থানে কুয়াশা বৃষ্টির সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতের অনুভূতি তীব্র করে তুলেছে। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে টাঙ্গাইলে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ও যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে।
রবিবার (২১ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি। আগামী ২৪ ঘন্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘনকুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও বুধবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে শীত বাড়ায় কষ্ট বেড়েছে শ্রমজীবী মানুষের। ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ভিড় করছেন হাসপাতালে। সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এ সময়টায় যতটা সম্ভব ঘরের ভেতর থাকা এবং শরীরকে সবসময় গরম রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি সবসময় গরম খাবার খাওয়া, গরম পানি পান করার কথা বলছেন তারা। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে ভর্তি রোগীর চেয়ে আউটডোর রোগীর সংখ্যা বেশি। এ সময়টায় রোগী কিছুটা বাড়ে। সে রকমভাবে ব্যবস্থাপনাও করা আছে বলে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান।
এদিকে সরকারিভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। তবে তীব্র শীত উপেক্ষা করেও কৃষকরা কৃষি ক্ষেতের কাজ অব্যাহত রেখেছেন। বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। কুয়াশা আর তীব্র শীতে নষ্ট হচ্ছে বোরোর বীজতলা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে বীজতলা পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখলেও উপকার না পাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে তাদের। কৃষক মান্নান ও সাইফুল জানান, কুয়াশায় বেশিরভাগ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এবার চড়া দামে চারা কিনে ধানের আবাদ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। বোরো বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বীজতলা নষ্টের ব্যাপারে কৃষকরা বলেন, যেসব বীজতলা কুয়াশায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সেগুলো জমিতে সেচ দিয়ে সারাদিন ভিজিয়ে রেখে বিকালে পানি বের করে দিতে হবে। এতে বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।