
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবৈধভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় গড়ে উঠেছে দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা। এসব অবৈধ দোকান থেকে প্রতিমাসে ভাড়া উত্তোলন করাসহ নতুন করে দোকান বরাদ্দ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাদের ওরফে রিপন নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তবে তিনি ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুপারভাইজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন।
সরেজমিনে ভূঞাপুর পৌরসভা সংলগ্ন লৌহজং নদীর সুইটগেট এলাকায় কমপক্ষে ৮ থেকে ১০টি দোকান গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে ফার্নিচারের দোকান, মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ের দোকান ও স্যানেটারি তৈরির কারখানাসহ দুইটি চায়ের দোকান রয়েছে। কর্মচারী কাদের সুইটগেটের পাশেই সম্প্রতি আরও একটি নতুন করে টিনের দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় অবৈধভাবে দোকান নির্মাণের জন্য সিকিউরিটি নিয়ে দোকান ভাড়া দিয়েছে এখানে দায়িত্বরত কাদের ওরফে রিপন। তিনি সরকারি বাসায় প্রায় ৮ বছর ধরে রয়েছেন এবং বাসায় গরুর খামার। এসব দোকান থেকে প্রতিমাসে ভাড়া উত্তোলন করে আসছেন। ফার্নিচার ব্যবসায়ী আমান আলী বলেন, তিন বছর আগে কাদেরকে সিকিউরিটির টাকা দেয়ার পর তিনি টিনের একটি ঘর নির্মাণ করে দেন। পরে সেখানে ফার্নিচারে আসবাবপত্র বিক্রি করে আসছি। এই ঘরের প্রতিমাসে ভাড়া ১ হাজার ৫০০ টাকা। চায়ের দোকানদার ফারুকের স্ত্রী বলেন, ৮০ হাজার টাকা সিকিউরিটি দিয়ে ঘরটি নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রতিমাসে ১ হাজার ২০০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে আসছি।
সুপারভাইজার পরিচয়দানকারী কার্য সহকারী কাদের ওরফে রিপন বলেন, এর আগে এখানে যে দায়িত্বে ছিলেন তিনিও এসব দোকান থেকে ভাড়া আদায় করতো। আমি দায়িত্বে আসার পর থেকে ভাড়া উত্তোলন করে আসছি। তবে, কোনো সিকিউরিটি নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় কোনো স্থাপনা করে ভাড়া দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো ব্যক্তি যদি এমনটা করে থাকে, তাহলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।