সাদ্দাম ইমন ॥
চালের বাজারে সরকারি অভিযান, কিছু পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়া, সবজির মৌসুমি সরবরাহ প্রত্যাশা করা হয়েছিল, এসব কারণে বাজারে স্বস্তি আসবে। কিন্তু বাজারে গিয়ে ভোক্তার স্বস্তি মিলছে না। বছরের শুরুতে চালের দাম বেড়ে যাওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও টাঙ্গাইলের বাজারে চালের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। উল্টো গত এক সপ্তাহে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশকয়েকটি পণ্যের দাম।
শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের সবজির ভরা মৌসুমে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউসহ বেশকয়েকটি সবজির দাম গত এক সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও। সাধারণত বছরের এ সময় সবজির দাম কম থাকে। কিন্তু এবার সবজির দাম এখনো বাড়তি। এ বিষয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সাজিদুল আলম বলেন, বাজারে এখন কোনো অভিভাবক নেই। যে যেভাবে পারছে, দাম বাড়াচ্ছে। আর এতে কষ্ট পাচ্ছে কেবল আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষেরা। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে। তবে কোনো ব্যবস্থাই বেশির ভাগ পণ্যের মূল্য কমাতে পারছে না।
গত সেপ্টেম্বরে আলু, দেশি পেঁয়াজ ও ডিম এই তিন পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু বেঁধে দেওয়া দর কখনোই কার্যকর করা যায়নি। এর বাইরে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া আছে চিনি, ভোজ্যতেল ও রান্নার গ্যাসের (এলপিজি)। কিন্তু এসব পণ্যের বেশির ভাগই বিক্রি হয় বাড়তি দামে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য যাঁদের নিয়মিত বাজারে যেতে হয়, তাঁদের অনেকে বেশ কষ্টেই আছেন। যে বাজারে নির্দিষ্ট ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির কোনো খবর নেই। এসব বাজারের বিক্রেতারা জানান, বছরের শুরুতে বাজারে চালের দাম যতটা বেড়েছে, তা এখনো খুব একটা কমেনি। খুচরা পর্যায়ে চালভেদে কেজিতে কেউ কেউ এক-দুই টাকা কম রাখছেন, তবে বেশির ভাগ বিক্রেতা আগের বাড়তি দামেই চাল বিক্রি করছেন। বিভিন্ন খুচরা বাজারে মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৫৩-৫৫ টাকায়। এছাড়া মাঝারি মানের চাল (পাইজাম ও বিআর ২৮) প্রতি ৫৬-৬০ টাকা এবং সরু চাল (মিনিকেট ও নাজিরশাইল) ৬৮ থেকে ৭৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে চালের দোকানের স্বত্বাধিকারী এম এ আউয়াল বলেন, বাজারে চালের দাম বেড়ে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। দাম কমার কোনো আভাস এখনো পাইনি।
চালের বাজারের যখন এই অবস্থা, তখন এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মুরগির ডিম ও দেশি পেঁয়াজের দাম। বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকা হয়েছে। আর ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি ডজন ১৩৫ টাকায়। সপ্তাহখানেক আগে ডিমের দাম ছিল ১৩০ টাকা। সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে শীতের সব সবজির দাম একবারে নিচে নেমে আসে। কিন্তু এই ভরা মৌসুমেও ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, লাউ, টমেটো, পেঁপেসহ বেশ কিছু সবজির দাম উল্টো বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব সবজির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মুলা, গাজর, শসা, শিম ইত্যাদি সবজির দাম। সবজির মধ্যে নতুন আলু ও গোল বেগুনের দাম কেজিতে ১০ টাকার মতো কমেছে। বাজারগুলোতে আলু ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।