
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন রাত ও দিনে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়েছেন। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় দুইজনকে এক লাখ টাকা জরিমানা, ড্রেজারের পাইপ ধ্বংস, একটি ড্রেজার, দুটি ভেকু মেশিন ও একটি লোভেট জব্দ করেছেন। এছাড়া রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা গেছে, বংশাই, লৌহজং নদী ও ধলেশ্বরী নদীর শাখা মির্জাপুর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত। এরমধ্যে বংশাই নদীর যোগীরকোফা-রশিদ দেওহাটা-কদিম দেওহাটা এবং গোড়াই মমিননগর মৌজায় প্রায় ১৩৫ একর ভূমিতে দুটি সরকারি বালু মহাল রয়েছে। এই বালু মহলসহ উপজেলার অর্ধশতাধিক স্পটে অবৈধভাবে নদীর বালু, পাহাড়ি টিলার লালমাটি ও ফসলি জমির মাটি কাটা শুরু হয়। বেপরোয়াভাবে মাটি কাটা ও গ্রামের রাস্তা দিয়ে ভাড়ি ডাম্প ট্রাক ও মাহেন্দ্র দিয়ে পরিবহন করায় রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার পাশের বাড়িঘর ধুলায় ডেকে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাকিলা বিনতে মতিন ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ইচাইল, জামুর্কি ইউনিয়নের কদিমধল্যা ও আগধল্যা, বানাইল ইউনিয়নের নরদানা এবং ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়াসহ মাটি কাটার বিভিন্ন স্পটে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় দুই মাটি ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। অবৈধভাবে মাটি ভর্তি মাহেন্দ্র চলাচল করে গ্রামের রাস্তা নষ্ট করার অপরাধে রোহিতপুর গ্রামের সালাউদ্দিন ও শুভুল্যা গ্রামের মফিজ মিয়ার কাছ থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া একটি ড্রেজারের বিপুল পরিমান পাইপ ধ্বংসসহ জব্দ, দুইটি মাহেন্দ্র, একটি লোভেট ও দুইটি মাটি কাটার ভেকু জব্দ করেন।
রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী মির্জাপুর উপজেলার কোর্ট বহুরিয়া, যোগীরকোফা ও রশিদ দেওহাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার মাটি ব্যবসায়ীকে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা এলাকার সুজন মিয়াকে দুই লাখ টাকা, যোগীরকোফা এলাকার মহসীন মিয়াকে দুই লাখ টাকা ও রশিদ দেওহাটা এলাকার শামীম হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা, জিয়াউর রহমানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এছাড়া বংশাই নদীর গাড়াইল এলাকায় নদীর পার কাটার অপরাধে গত (২৮ জানুয়ারি) মাটি ব্যবসায়ী আলমগীর মৃধা ও ইউসুফ মিয়ার কাছ থেকে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক। লৌহজং নদীর ইচাইল এলাকায় এবং থলপাড়া এলাকায় মাটি কাটার অপরাধে দুটি ভেকু মেশিন জব্দ এবং আগধল্যা এলাকায় ড্রেজারের পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। এ সময় লৌহজং নদীর বুধিরপাড়া এলাকায় দেয়া বাঁধও কেটে দেন আদালতের বিচারক।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাকিলা বিনতে মতিন বলেন, সরকারি বালু মহালসহ নদীর পার ও ফসলি জমির মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এজন্য তিনি এবং উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান প্রতিদিন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছেন। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।