সাদ্দাম ইমন ॥
অবৈধ ব্যানার ও বিলবোর্ডে সয়লাব টাঙ্গাইল পৌর শহর। শহরের সড়ক, রোড ডিভাইডার, দু’পাশের ভবনের দেওয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটি কিংবা সড়ক বিভাযকের কার্নিশ বাদ যায়নি কোন স্থানই। খোদ পৌর মেয়রের নিজের ছবিযুক্ত ব্যানার, পোস্টার, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দিবস, মুক্তি চাই, দোয়া প্রার্থী ও শুভেচ্ছা ব্যানার, পোস্টার, কোম্পানী প্রচারণা ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পৌর শহর। এছাড়া কোচিং সেন্টার, বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রচারণা কিংবা বিভিন্ন ভর্তি বিজ্ঞাপন কি নেই এতে!
টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র নিরালা মোড় ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক নেতাসহ পৌর মেয়রের ব্যানার লাগানোর প্রথম পছন্দের জায়গা! বাদ যায়নি বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টও। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কালিবাড়ি রোড, ভিক্টোরিয়া রোড, মেইন রোড, ময়মনসিংহ রোড, বেবিস্ট্যান্ড মোড়, আকুরটাকুর রোড, নতুন বাসস্ট্যান্ড, বটতলা মোড়, পুরো ডিস্ট্রিক ও আদালত এলাকাজুড়ে ও বিভিন্ন সড়কের আশেপাশে ডানে-বামে ব্যানার ও পোস্টারে ভরে গেছে। এসব ব্যানার ফেস্টুন সাটাতে আবার কোথাও কোথাও গাছেও পেরেক ঠোকা হয়েছে। ভবন, সড়ক, দেয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে অসংখ্য ব্যানার-বিলবোর্ডসহ বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে সৌন্দর্য্য হারাতে বসেছে বড় পৌরসভা টাঙ্গাইল। এমন কোনো স্থান নেই যার পিলার এবং ওয়ালে পোস্টার, ব্যানার ও বিজ্ঞাপন নেই। যত্রতত্র লাগানো হচ্ছে নানান ধরনের বিজ্ঞাপন। ফলে নষ্ট হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য। অথচ শহরের সার্বিক সৌন্দর্য্য ও দেখভালের গুরুদায়িত্ব টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষের।
সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভা দেশের প্রাচীন পৌরসভার একটি। বিগত ১৮৮৭ সালের (১ জুলাই) এই পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠা লাভের পর অনেক সুকঠিন পথকে পাড়ি দিয়ে আজকের এ অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ১৯৮৫ সালে টাঙ্গাইল পৌরসভা ‘গ’ থেকে ‘খ’ এবং বিগত ১৯৮৯ সালে ‘খ’ থেকে ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নতি লাভ করে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে টাঙ্গাইল সদর পৌরসভাকে টাঙ্গাইল সিটি কর্পোরেশন করা হবে এবং এর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। “ক” শ্রেণীর টাঙ্গাইল পৌরসভার আয়তন ৩৪.৪৩ বর্গ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত আয়তন ৮১.৭৫ বর্গ কিঃ মিঃ (বর্তমান আয়তনসহ)। ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে এই পৌরসভা গঠিত। বিগত ২০১১ সালের আগমশুমারী অনুযায়ী টাঙ্গাইল পৌরসভায় জনসংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৮৫ জন। বিগত ২০১৮ সালের আগমশুমারী অনুযায়ী টাঙ্গাইল পৌরসভায় শিক্ষার হার ৮০.৮০%।
সচেতন পৌরবাসি অভিযোগের সুরেই বলেন, ব্যক্তি পর্যায়ের ছবি সম্মিলিত পোস্টার ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, হাসপাতাল ও দোকানের বিজ্ঞাপনী পোস্টারে সওলাব হয়ে গেছে। রক্ষক হয়ে খোদ ভক্ষকের ভূমিকা নিয়েছেন মেয়র। পৌরসভার মেয়র তার নিজের ছবি বিশাল আকৃতি করে ব্যানার করে টাঁঙ্গিয়ে রেখেছেন শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে। যত্রতত্র লাগানো এসব ব্যানার ও পোস্টার সরিয়ে ফেলার দাবিও জানাচ্ছেন পথচারীরা। এসবের কারণে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। যত্রতত্র পোস্টারের কারণে ঘিঞ্জি আর বিশ্রী লাগে। যে যার মতো করে পোস্টার মেরে যাচ্ছে। শহরের সৌন্দর্য রক্ষা করা পৌরসভার কাজ। তাই তাদের প্রতি দাবি জানিয়ে বলতে চাই যত্রতত্র লাগানো এসব নিজের, রাজনীতিবিদ ও বিজ্ঞাপনী পোস্টার সরিয়ে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেন। চলাচলের সময় যত্রতত্র পোস্টার দেখতে কারোরই ভালো লাগে না। একটি পরিচ্ছন্ন শহর ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। পৌর কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনের প্রয়োগ করে এ শহরের সৌন্দর্য্য রক্ষায় জোড়ালো ভূমিকা রাখবে সাধারণ মানুষের এটাই প্রত্যাশা।
পৌরসভা আদর্শ কর তফসীল ২০১৪ অনুযায়ী ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভায় প্রতি বর্গফুট সাধারণ সাইনবোর্ডের জন্য একশ’ ও দেড়শ’ এবং আলোকসজ্জিত প্রতিবর্গফুট সাইনবোর্ডের জন্য বিজ্ঞাপন ফি নির্ধারণ করা হয় দেড়শ‘ থেকে দুইশ’ টাকা। কিন্তু টাঙ্গাইল পৌরসভার সৌন্দর্যের প্রশ্নে পৌরসভার মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে তারা জিম্মি। অনেকে প্রশাসনের দোহাই দিয়ে বিলবোর্ড, ব্যানার টানিয়ে পৌরসভার সৌন্দর্য্যহানী ঘটাচ্ছে।
পৌরসভায় অনুমোদন ছাড়া বিলবোর্ড, ফেস্টুন, ব্যানার টানানো কিংবা দেয়াল লিখন ও পোস্টার সাঁটালে- দেয়াল লিখন ও পোষ্টার নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে ১৫ দিন পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ডসহ নিজ খরচে সংশ্লিষ্ট দেয়াল লিখন বা পোস্টার অপসারণের বিধান রাখা হয়েছে। আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঝে মাঝে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে ওগুলো তুলে ফেলে। নির্দেশনা আছে যেন যত্রতত্র পোস্টার কেউ না লাগাতে পারে বা অপরিচ্ছন্ন না থাকে। আমরা এগুলো পরিচ্ছন্ন রাখতে দ্রুত কাজ করব।