
এরশাদ মিয়া, নাগরপুর ॥
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সরকারী মাওলানা মোহম্মদ আলী কলেজের অনার্স (সম্মান) ৩য় বর্ষের ছাত্র জাহিদ খান ঝলককে (২৪) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ঝলক ওই গ্রামের শামিনুর খানের ছেলে। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ওই রাতেই ৩ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জিহাদ ও রানাকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থেকে এবং ইমনকে সালিমাবাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে নাগরপুর থানায় নিহতের পিতা শামিনুর খান বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত রেখে হত্যা মামলা রুজু করেন। হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতরা হলো সলিমাবাদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের দুই ছেলে রানা (২২), জিহাদ (১৯) ও একই গ্রামের জহের আলীর ছেলে ইমন (১৯)।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৮ মার্চ) রাতে তারাবি নামাজ পড়ার জন্য জাহিদ খান ঝলক বাড়ির পাশের মসজিদে যায়। তারাবি নামাজ আংশিক পড়ে সে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় পথিমধ্যে পূর্বে থেকে ওৎ পেতে থাকা রানা, জিহাদ ও ইমনসহ আরো ১০/১২ জন মিলে তাকে উপুর্যপুরি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। নিহত ঝলকের ভাই পিয়াল হাসান পলক জানান, তারাবি নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হলে নারী ও শিশুদের ডাকচিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। পরে ঘটনাস্থলে পৌছে দেখি আমার ভাই ঝলককে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে সঙ্গাহীন অবস্থায় ফেলে রেখে গেছে। এ সময় প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের সহযোগীতায় ঘটনাস্থল থেকে ঝলককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান ইমা বলেন, ছাত্রলীগ নেতা ঝলক হাসপাতালে পৌছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হয়।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হাসান জাহিদ বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে। এ হত্যা মামলার আসামী জিহাদ, ইমনকে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামী রানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহাড়ায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিম হোসেন রতন এ হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, নিহত ঝলক উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। সে অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্র নেতা ছিল। এ হত্যার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।