
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের এক গৃহবধূ তার সেনা সদস্য স্বামী শাহিন আলম শাওনের যৌতুক দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ওই গৃহবধূ এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যৌতুকলোভী সেনা সদস্য স্বামীর অত্যাচার-নির্যাতনে তিনি অতিষ্ঠ। তার স্বামী শাহিন আলম শাওন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ায় তার উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে কর্মস্থলেই থাকছেন।
স্বামীর সঙ্গে সংসার করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে ওই গৃহবধূ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বর্ধনপুর গ্রামের আফছার আলীর ছেলে সেনা সদস্য শাহিন আলম শাওনের সঙ্গে ২০২৩ সালের (৭ জানুয়ারি) তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিন মাস তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। এরপর তার স্বামী শাওন কর্মস্থল চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি সেনানিবাসে চলে যান। কর্মস্থলে গিয়ে শাওন তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। ওই গৃহবধূ খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন-তার স্বামী শাওন পরকীয়ায় আসক্ত। এ কারণে তার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন। এক পর্যায়ে শাওন মোটরসাইকেল কেনার জন্য ওই গৃহবধূর পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এর আগেও শাওন শ্বশুরবাড়ি থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক নিয়েছে। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় শাওন তার পরিবারের লোকজন দিয়ে ওই গৃহবধূকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে ওই গৃহবধূ (রিনা আক্তার) বাদি হয়ে টাঙ্গাইলের জুডি. ম্যাজিস্ট্রেট (মির্জাপুর থানা আমলী) আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সেনা সদস্য শাহিন আলম শাওনের নামে গ্রেপ্তারী পরওয়ানা (স্মারক নং-৯৬, তাং-২৮/১২/২৩ইং) জারি হয়। গ্রেপ্তারী পরওয়ানা জারি হওয়ার পর শাওন সেনা সদস্যের ক্ষমতা ব্যবহার করে মির্জাপুর থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে মামলাটি মিমাংসা বা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, তার পরিবার বিষয়টি চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি সেনানিবাসে জানাতে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিমাংসা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। দীর্ঘ প্রায় পৌঁনে তিন মাস যাবত আদালতের গ্রেপ্তারী পরওয়ানা জারি থাকার পরও সেনা কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পুলিশও তাকে গ্রেপ্তারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
অভিযুক্ত স্বামী সেনা সদস্য শাহিন আলম শাওনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে জানান, তার বিরুদ্ধে আনা সকল প্রকার অভিযোগ মিথ্যা। তিনি কোন যৌতুক চাননি এবং নির্যাতনও করেন নি।
তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য কবির হোসেন সোবহান জানান, তার উপস্থিতিতে শাওন-রিনার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন ওই ছেলে যৌতুকের অযুহাতে স্ত্রীর উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালায়। এটা মাথায় আসে না। ওই ছেলের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সংশ্লিষ্ট এসআইওয়ের কাছে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।