
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও সখীপুর উপজেলার দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কোন পরীক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি। জেলার সখীপুর উপজেলার কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও জেলার নাগরপুর উপজেলার ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
জানা যায়, বিগত ২০০০ সালে সখীপুর উপজেলায় কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৬ জন। বিদ্যালয়টি ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পায়। স্থানীয়রা টাঙ্গাইল নিউজবিডিকে জানান, বিদ্যালয়টিতে তেমন পড়াশুনা হয় না। শিক্ষকরা এসেই চলে যায়। শিক্ষার্থীও নেই তেমন। শুধুমাত্র এমপিওভুক্ত পাবার জন্য বিদ্যালয়টি চালু রাখা হয়েছে। বিগত সময়েও ওই বিদ্যালয়ে ফলাফল ভাল ছিল না।
জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৮২.৩৫ শতাংশ এবং শতভাগ পাশ করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০টি। মাদরাসায় ৭৪.৩৭ শতাংশ এবং শতভাগ পাশ করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২২টি। আরও জানা যায়, সখীপুরের কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষার্থী ছিল ৫ জন এবং নাগরপুরের ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদরাসা ২৭ জন পরীক্ষার্থী ছিল। তবে পরীক্ষায় অংশ নেয়া এসব শিক্ষার্থী কেউ পাশ করতে পারেনি।
কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল নিউজবিডিকে জানান, স্কুলের পড়াশোনা ভালো না। স্যাররা সময় মতো ক্লাসে আসেন না। বাসায় নিজে নিজে যা পরেছিলাম। পরীক্ষাও ভালো দিয়েছিলাম। আশাবাদী ছিলাম ভালো রেজাল্ট করবো, কেন এমন হলো বুঝতে পারছি না।
কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন দাবি করে বলেন, এবার এসএসসিতে ভাল ফলাফল করেছে শিক্ষার্থীরা। তিনি টাঙ্গাইল নিউজবিডিকে বলেন, বিদ্যালয়ের কেউ পাশ করেনি আপনাদের এই তথ্য কে দিয়েছে এটা সঠিক তথ্য না। আপনি ওয়েব সাইটে গিয়ে রেজাল্ট দেখেন। আমি বলতে পারবো না কয়জন পাশ করেছে।
সখীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ টাঙ্গাইল নিউজবিডিকে জানান, উপজেলায় এবার পরীক্ষার রেজাল্ট ভাল হয়েছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতিত। কালিয়া আড়াইপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না। তারপরও কেন তাদের পরীক্ষায় কোন শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি বা ফলাফল খারাপ হয়েছে সেই বিষয়ে ব্যাখা চাওয়া হবে। ওই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সামনের পরীক্ষাগুলোতে ফলাফল খারাপ হলে ওই বিদ্যালয়ের ক্লাশ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।
এদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চলতি বছর অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাশ করেনি। প্রতিষ্ঠানটি হলো উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের সরিষাজানি ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ্ আলিম মাদ্রারাসা। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ২৭ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাস করেনি কেউ। বিগত ১৯৪৫ সালে সরিষাজানি ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ্ আলিম মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয় ১৯৮৫ সালে। বর্তমানে সুপারসহ ১৩ জন শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছে। ষষ্ঠ থেকে আলিম পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩শ’ জন।
অভিভাবকরা টাঙ্গাইল নিউজবিডিকে বলেন, পরীক্ষার ফলাফল দেখেই বোঝা যায় মাদ্রাসার লেখাপড়ার মান কতটা ভালো। শিক্ষকরা ১০টা ১১টায় আসেন, আবার ১টা ২টার মধ্যেই চলে যান। লেখাপড়া নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। যার জন্য দিন দিন কমে যাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী। এদিকে নজর দেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা। অকৃতকার্য কয়েকজন শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল নিউজবিডিকে বলেন, প্রশ্ন অনেক কঠিন ছিলো। যার কারনে সবাই ফেল করেছি।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা গোলাম রব্বানী টাঙ্গাইল নিউজবিডিকে বলেন, বিগত বছরগুলোতে ফলাফল অনেক ভালো ছিল। ছাত্রছাত্রীরা ভালোভাবে লেখাপড়া করলে অবশ্যই রেজাল্ট ভালো হতো। তবে সকল ছাত্র-ছাত্রী ফেল করার পিছনে শিক্ষকদের গাফলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।
নাগরপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদির আহমদ টাঙ্গাইল নিউজবিডিকে বলেন, ইসলামাবাদ দারুচ্ছুন্নাহ আলিম মাদরাসার ২৭ শিক্ষার্থীর একজনও কেন পাস করলো না এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আমি ওই প্রতিষ্ঠানের বিগত ফলাফলের বিষয়ে অবগত না। প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাখা পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।