
স্টাফ রিপোর্টার ॥
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। ঈদুল আজহা যাকে কোরবানির ঈদও বলা হয়। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে মুমিন-মুসলমানরা এই ঈদে পশু কোরবানি করেন। পশু কোরবানির ফলে মুমিনের কলব হয় পরিশুদ্ধ। আর এটাই কোরবানির উদ্দেশ্য।
কোরবানি করা পশুর মাংস ভাগ করার নিয়ম রয়েছে, যা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির পশুর মাংস ভাগ করার নিয়ম স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহুতায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির মাংস এক ভাগ নিজের পরিবারকে খাওয়াতেন। এক ভাগ গরিব প্রতিবেশীদের দিতেন আর এক ভাগ গরিব মিসকিনদের দিতেন।
কোরবানির মাংস সম্পর্কে মহান আল্লাহতায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেন, তোমরা উহা হতে আহার করো এবং দুস্থ, অভাবগ্রস্তদের আহার করাও। (সুরা হজ, আয়াত ২৮) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানি সম্পর্কে বলেছেন, তোমরা নিজেরা খাও এবং অন্যদের আহার করাও আর সংরক্ষণ করো। (বোখারি শরিফের হাদিস ৫৫, ৬৯)
কোরআনের অন্য জায়গায় বর্ণিত হয়েছে, সারিবদ্ধভাবে কোরবানির যন্ত্র বাঁধা অবস্থায় তাদের জবাই করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করো। অতঃপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায়, তখন তোমরা তা থেকে আহার করো এবং আহার করাও। (সুরা হজ, আয়াত ৩৬)
কোরবানির পশুর মাংস নিজে খেতে গরিব-অসহায়-দরিদ্রদের খাওয়াতে ইসলাম উদ্বুদ্ধ করেছে। যাতে মুসলিম সমাজে বৈষম্য তৈরি না হয়ে পরস্পরে আন্তরিকতার বন্ধন সৃষ্টি হয়। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ভাগের নির্দিষ্ট পরিমাণ জানা না গেলেও, সাহাবায়ে কেরাম থেকে তার দলিল পাওয়া যায়।