স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইরের মির্জাপুরে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জিতেন সূত্রধর নামে এক ব্যাক্তিকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার (১৫ জুন) ওয়ার্শী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। ভূক্তভোগী ওই সংখ্যালঘু এই ঘটনায় মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার ওয়ার্শী ইউনিয়নের নাগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জিতেন সূত্রধরের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই সূজিত সূত্রধরের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে জিতেন সূত্রধর টাঙ্গাইল আদালতে গত (২০ মে) ১৪৪ ধারায় ফৌজদারী মামলা করেন। একই বিষয়ে সুজিত সুত্রধর ওয়ার্শী ইউপি কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম মল্লিক ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে সালিশি সভায় হাজির হওয়ার জন্য জিতেন সূত্রধরকে নোটিশ দেন। কিন্তু সালিশি বৈঠকে জিতেন সূত্রধর হাজির না হওয়ায় গত (১৫ জুন) সকালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে জিতেন সূত্রধরকে বাড়ি থেকে ধরে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে পরিষদের ভবনের একটি কক্ষের ভেতর জিতেন সূত্রধরকে আটকিয়ে চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম মল্লিক এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করে আহত করে। পরে জিতেন সূত্রধর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখান থেকে বেরিয়ে জিতেন সূত্রধর জামুর্কী উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্্ের চিকিৎসা নেন। মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেলে জিতেন সূত্রধর মির্জাপুর প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে ওয়ার্শী ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মল্লিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের বিচার মেনে নিয়ে জিতেন সূত্রধর আদালতে মামলা করেছেন। এজন্য তাকে আমরা পুণরায় নোটিশ করেছি। সালিশি বৈঠকে হাজির না হওয়ায় তাকে ডেকে এনে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়নি। আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও ইউনিয়ন পরিষদে সালিশি বৈঠক করা যায় কিনা জানতে চাইলে বলেন, জিতেন সূত্রধর আমাদের বিচারও মানেননি।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) আরিফুল ইসলাম ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মল্লিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।