
হাসান সিকদার ॥
টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় এমপি তানভীর হাসান ছোট মনিরের বাসভবন, পেট্রোল পাম্প ও হাইওয়ে রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ১ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১ টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে দিনের কর্মসূচি শুরু করে তারা। এসময় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
রবিবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। এসময় তাদের হাতে সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সাড়ে ১১ টার দিকে আন্দোলনকারীদের কাছে হঠাৎ খবর আসে শহরের বটতলায় দুই ছাত্রীকে মারধর করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে আন্দোলনকারীরা শহরের বটতলার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যেতে থাকে। আন্দোলনকারীরা শহরের বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে রাখা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের ব্যক্তিগত গাড়ি প্রাইভেটকারে আন্দোলনকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।
পরে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা সদর রোড হয়ে সিঅ্যান্ডবি রোড দিয়ে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত স্থান থেকে কে বা কারা মিছিলের উপর গুলি চালায়। গুলিতে একজন আহত হয়। এসময় আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে মিছিলটি পুরাতন বাসস্ট্যান্ড হয়ে পূর্ব আদালত পাড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনিরের বাসভবনে হামলা চালিয়ে প্রথমে ব্যাপক ভাঙচুর ও পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আন্দোলনকারীরা মহাসড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের শহর বাইপাস নগরজালফৈ এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা শহর বাইপাস দরুন এলাকায় এমপি ছোট মনিরের মালিকানাধীন ‘দি টাঙ্গাইল মডেল ফিলিং স্টেশন এন্ড ধ্রুব রেস্টুরেন্ট’ নামীয় পেট্রোল পাম্পে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
বিকাল পৌনে তিনটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল আদালত চত্ত্বরের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আদালত চত্ত্বরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ২-৩ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে। এতে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ মিছিলটি পিছু হটে নিরালা মোড়ের দিকে যাওয়ার সময় বটতলাস্থ ‘রামকৃষ্ণ মিশন মঠ ও আশ্রমে’ ভাঙচুর চালায়।
বিকেলে আন্দোলনকারীরা মেইন রোডে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ফারুকের বাসাও ভাঙচুর করে। এছাড়া টাঙ্গাইল পৌরসভা ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শহরের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রেসক্লাব, নিরালা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, জেলার কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর করা হয়। আন্দোলনকারীদের হামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু আহত হয়েছেন। এছাড়াও ঘাটাইলে পুলিশ বক্স ভাঙচুর করেছেন আন্দোলনকারীরা।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন জানান, একটি বিক্ষোভ মিছিল আদালত চত্ত্বরের দিকে যাওয়ার পথে পুলিশ ২-৩টি টিয়ার শেল ছুড়ে মিছিলটি ফিরিয়ে দেয়। অন্য কোথাও পুলিশ কোনো অ্যাকশনে যায়নি। আন্দোলনকারীরা নির্বিঘ্নে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তিনি আরও জানান, জনসাধারণের জান-মাল রক্ষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী শহরে টহল দিচ্ছে।