
নুর আলম, গোপালপুর ॥
এক সপ্তাহের ব্যবধানে টাঙ্গাইল গোপালপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে কাঁচা তরকারি, কাঁচা মরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কেনাকাটা করতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষ। বিক্রেতাদের দাবি টানা বৃষ্টিতে অনেক সবজি ক্ষেত ডুবে যাওয়া, ফসল সংগ্রহ করতে না পারা এবং পরিবহন সমস্যার কারণে আড়ৎ এ পণ্য আমদানি কম থাকায় মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে গোপালপুর বাজার, নলিন হাট ঘুরে দেখা যায়, টমেটো, গাজর, শসা, করলা, লাউ, পটল, বেগুন, আলু, মিষ্টি কুমড়ার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে। ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সবজিগুলো ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নলিন হাটে বেগুনের দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকা ও লাউ প্রতিটি ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গোপালপুরসহ অন্যান্য বাজারে পটল ৬০ টাকা, ফুলকপি ১২০ টাকা, মুখি কচু ৬০-৭০ টাকা, করল্লা ৮০-১০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, মুলা শাক ৩০-৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০০-৫০০ টাকা, সোয়াবিন তেল ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
ডিমের দাম শুনে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। মুরগির দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৪০-৮০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ২২০ টাকা, দেশি মুরগি ৭০০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩৬০ টাকা, লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির ডিম ৫৫-৬০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। চালপ্রতি বস্তা প্রতি ৩০০-৪০০ টাকা বেড়েছে, ২৯ চাল ৫০ কেজি বস্তা ৩০০০ টাকা, পাইজাম চাল ৩৪০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছে ২০০-৩০০ টাকা। চারিদিকে অথৈ পানি থাকলেও মাছ বাজারে নেই স্বস্তির খবর।
বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টিকে পুঁজি করে বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়েছেন। নিয়মিত বাজার তদারকি করা হলে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পেতো না। অটো ভ্যান চালক আব্দুস সালাম জানান, বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন যাবৎ আয় রোজগার কমে গেছে। জিনিসপত্রের দাম এতো বেড়েছে যে, সামান্য আয় করা টাকা নিয়ে বাজারে এসে ব্যাপক হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাকুরিজীবী কামাল হোসেন বলেন, এভাবে খাদ্যপন্যের দাম বাড়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমান সরকারের সময়ে মনে করেছিলাম সকল কিছুর দাম কমে আসবে। কিন্তু এখন দেখি সব কিছুর দাম আর বেড়েই চলছে। আমার মনে হয় আগেই ভাল ছিলাম অনেক।
গোপালপুর বাজারের কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী ফেরদৌস হাসান বলেন, সাধারণত এ সময় সবজির দাম কম থাকে। কিন্তু বৃষ্টির জন্য সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে প্রতিদিন মাল কিনতাম ২০-২৫ মন, এখন মাল কিনতে হচ্ছে ৫-৭ মন। টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে কাঁদা-পানি, সেজন্য সবজি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুল হাসান বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। নিয়মিত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবো।






