
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় ৪১টি দপ্তরে প্রধান হিসেবে একজন কাজ করছেন। ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), পৌর মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের ৫ জন চেয়ারম্যান, ৫টি কলেজ, ২৮ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সভাপতি এবং নিজ দপ্তর উপজেলা ভূমি অফিসের সব দপ্তরের প্রধান কর্তার দায়িত্ব পালন করছেন ভূঞাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার।
জানা যায়, বদলিজনিত কারণে ইউএনও মামুনুর রশীদ পদটি শূন্য রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ, ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধু গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান ব্যতিরেকে ৫ জন চেয়ারম্যান আত্মগোপনে রয়েছেন। ৭টি কলেজের ৫টি কলেজ, ২৮ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সভাপতির পদ শূন্য। ভূঞাপুর উপজেলার সব সেক্টরে প্রধান পদগুলো শূন্য থাকায় জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষ সেবা বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন। জন্ম নিবন্ধন সনদ, পরিচয়পত্রসহ নানাবিধ কাজ দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের কাজে আসা মানুষদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
ফলদা ইউনিয়নের বাসিন্দা আল আমিন জানান, পরিষদে ৩ দিন ঘুরে ব্যর্থ হয়ে এসিল্যান্ড অফিসে এসেছি। প্রায় সব দপ্তরের দায়িত্ব সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার একক দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি না থাকায় এককভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার।
উপজেলার অন্যান্য ভূক্তভোগীরা জানান, বদলিজনিত কারণে উপজেলায় নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ বরিশাল বিভাগে চলে গেছেন। সরকারি সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক কারণে পৌরসভায় মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ আত্মগোপনে রয়েছেন। একই কারণে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের একজন বাদে ৫ জন চেয়ারম্যানই আত্মগোপনে রয়েছেন। সরকারি সিদ্ধান্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি পদ বাতিল করায় ৭ কলেজের ৫টিতেই সভাপতির পদ শূন্য রয়েছে। নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজে ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এবং শহীদ জিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। সবগুলো শূন্য পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার উপর অর্পিত দপ্তরসমূহের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছি।