আদালত সংবাদদাতা ॥
তিন বছর আগে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক (ভিপি নুরের) উপর হামলার ঘটনায় গত (১ সেপ্টেম্বর) হওয়া মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। ওই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে শুক্রবার (১ নভেম্বর) বিকেলে তাকে আদালতে তোলা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমত আরা আগামী রোববার (৩ নভেম্বর) রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন। পরে সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। টাঙ্গাইল আদালত পরিদর্শক মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার (ওসি) তানবীর আহম্মদ জানান, বিগত ২০২১ সালের (১৭ নভেম্বর) ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হকসহ গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতারা টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এ সময় তার উপর হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় তিন বছর পর গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান বাদী হয়ে গত (১ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) হাজিরা দিতে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এসেছিলেন সহিদুর রহমান খান মুক্তি। হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে বিকেলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করে সদর থানা পুলিশ। সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে এবং একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ছোট ভাই।
আরও জানা যায়, বিগত ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলায় মুক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বের হয়ে আসে। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পর বিগত ২০২০ সালের (২ ডিসেম্বর) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। পরে বিগত ২০২২ সালের (১০ ফেব্রুয়ারি) জামিন পেলেও পরে সেই জামিন বাতিল করেন আদালত। এরপর বিগত ২০২৩ সালের (২০ নভেম্বর) উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে গত (২২ নভেম্বর) কারামুক্ত হন তিনি। পরে আদালত তার জামিন বাতিল করলে পরদিনই আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে যান। গত (২৮ আগস্ট) তিনি আবার জামিন পান।
আদালত সূত্র জানায়, ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সহিদুর রহমান খান মুক্তি গত (২২ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে স্থায়ী জামিন লাভ করেন। পরে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) মামলার ধার্য তারিখে তিনি অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাজিরা শেষে তাঁকে দুপুর ১২টার দিকে হুইল চেয়ারে করে আদালত কক্ষ থেকে বের করা হয়। এ সময় তাঁরা আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পান। পুলিশ এর আগেই সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে বহন করে আনা অ্যাম্বুলেন্সটি আদালত ভবনের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়। পরে সহিদুর রহমান খান মুক্তি আবার আদালত কক্ষে ফিরে যান।
বিকেল সোয়া তিনটার দিকে তিনি আবার হুইল চেয়ারে করে আদালত কক্ষ থেকে বের হন। এ সময় সদর থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য তাঁকে ঘিরে ধরেন। এ সময় ওসি তানভীর আহম্মদ সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে পুলিশের আনা মাইক্রোবাসে উঠতে বলেন। সহিদুর রহমান খান মুক্তি এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কি না জানতে চান। পুলিশ তাকে আটকের কথা বলে। কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে ওসি তানবীর আহম্মদ সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে বলেন, আমাদের সঙ্গে চলেন, সব জানানো হবে।