
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) রাত প্রায় ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলা দরিচন্দবাড়ী, কেন্দুয়া, মুসুদ্দি, পাইস্কা, নল্যা, ভলিভদ্র, প্যারিআটা, ভাইঘাটসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা প্রায় দেড় ঘন্টার উপরে অতি ভারি শিলাবৃষ্টি হয়। এতে আমন ধান ছাড়াও বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজির খেত নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধনবাড়ী উপজেলার দরিচন্দবাড়ী, কেন্দুয়া, ভলিভদ্রসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশি ভাগই জমির ধান আধাপাকা। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) রাতে অসময়ে হঠাৎ বড় আকারের শিলাবৃষ্টির কারণে জমির পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। অসংখ্য জমির ধানের শীষগুলোতে শিলাবৃষ্টি পড়ে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার দরিচন্দবাড়ী গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, শিলাবৃষ্টির কারণে আমাদের জমির আধাপাকা ধান মাটিয়ে নুয়ে পড়েছে। এতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমনিতেই কয়েক বছর ধরে ধান চাষে লোকসান। তারমধ্যে শিলাবৃষ্টি। যা ধান পেতাম তার অর্ধেকও ধান এবার ঘরে উঠাতে পারব না। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলাম।
কেন্দুয়া গ্রামের জাকির মিয়া বলেন, আমি এক একর জমির ধান লাগিয়েছিলাম। আমার কিছুই রইলো না। ধানে ক্ষেতের যে অবস্থা গরুও তা খাবে না। শিলায় ধান গাছ ছিড়ে গেছে। সব ধান মাটিতে ছিড়া পড়ে গেছে। এখন নিজে কিভাবে চলবো আর গরু-বাছুররেই কি খাওয়াবো। ঋণ নিয়া ধান চাষ করছিলাম, এখন তাদের ঋণ কিভাবে পরিশোধ দিব। চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছি। আরেক কৃষক মঈন উদ্দিন বলেন, আমি এমন শিলাবৃষ্টি আগে কখনও দেখি নাই। আমার আধা বিঘা জমির সবজি খেতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির ফলে আমার জমির সবজি খেত সবটুকু নষ্ট হয়ে গেছে। সবজি খেতে সাড়ে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। অনেক ক্ষতির মধ্যে পড়ে গেলাম। কিভাবে ক্ষতি পূরণ পুষাব তা বুঝতে পারছি না। ভলিভদ্র গ্রামের সমেজ মিয়া বলেন, মরিচ লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর চাষ করি। রাতে দেড় ঘন্টার শিলাবৃষ্টিতে আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। আমার অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেল।
এ ব্যাপারে ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) রাতে ব্যাপক শিলাবৃষ্টির কারণে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে বেশি পরিমাণে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে করে অনেক কৃষকের আধাপাকা ধান ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তালিকা করছে এবং কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছেন।