স্টাফ রিপোর্টার ॥
শীত আসায় টাঙ্গাইলের সখীপুরে খেজুর রস সংগ্রহ করতে গাছ প্রস্তুত শেষে রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা। উপজেলার প্রায় অনেক গ্রামেই গাছিদের এ ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় অন্য জেলা ও উপজেলা থেকে গাছিরা এসে বাসা ভাড়া নিয়েছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খেজুর রস সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করা যায় সেজন্যই তাদের এই প্রস্তুতি। গাছ প্রস্তুতি শেষে রস সংগ্রহের জন্য গাছে হাড়ি বেঁধেছেন। যাতে চুইয়ে চুইয়ে রস হাড়িতে পড়ে। আবার রস যাতে কোনো পাখি নষ্ট না করতে পারে তার জন্য থাকছে বাড়তি প্রস্তুতি। গাছিরা সুন্দরভাবে গাছে নেট দিয়েছেন। গাছিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রস সংগ্রহ করে গুড় বানানো আরও বেশি সময় ও কাঠখড় পোড়াতে হয়। একটি বড় চোলা তৈরি করে তার ওপর বড় তাওয়া বা পাতিল বসাতে হয়। তাওয়ায় কাঁচা রস দিয়ে প্রচুর পরিমাণ আগুন জ্বাল দিতে হয় অনেকক্ষণ জ্বালের পর মিঠাই বা গুড়ে পরিণত হয়। মিঠাই ও রস- এ দুইভাবে গাছিরা তাদের সংগৃহীত রস বাজারজাত করে বলে তারা জানান।
সরেজমিনে উপজেলার কালিদাস, আড়াইপাড়া, তক্তারচালা, হতেয়া, কচুয়া, বড়চওনা, নলুয়া, বেড়বাড়ি, বহেড়াতৈলসহ বেশ কিছু এলাকায় খেজুর গাছ পরিষ্কার করতে দেখা যায়। রাজশাহী থেকে আসা নূর ইসলাম বলেন, শীতের শুরুতেই বাজারে খেজুরের কাঁচা রসের চাহিদা বেশি থাকে এবং এই রসের মূল্যও অনেক বেশি। এ কাজ অত্যন্ত বিপদজনক ও কঠিন পরিশ্রমের কাজ। তবে তিন থেকে চার মাস পরিশ্রম করলে অনেক টাকা আয় করা যায়। আড়াইপাড়া গ্রামের কামাল হোসেন বলেন, গাছিরা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে সুন্দর করে জ্বাল দিয়ে প্রতি গাছ থেকে তিন কেজি রস তাকে দেবেন। আর অবশিষ্ট রস তারা নিয়ে যাবেন। এ হিসেবেই গাছিরা মালিকদের কাছ থেকে গাছ ভাড়া নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মণ বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য শীতকালে খেজুরের রস ও গুড় হারিয়ে যাচ্ছে। খেজুরের রস দিয়ে তৈরি পিঠাপুলি থেকে শুরু করে নানা ধরনের মজাদার ও সুমিষ্ট পিঠা খেতে ভারি মজা। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া এ ঐতিহ্য ফিরে আসুক- এ প্রত্যাশা করি।