
সাদ্দাম ইমন ॥
মেঘলা আকাশ আর কুয়াশার কারণে টাঙ্গাইলের কোথাও সূর্যের দেখা মিলছে না। ভোর রাত থেকে বৃষ্টির মতো পড়ে কুয়াশা। অব্যাহতভাবে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শীতের দাপটে কাবু হয়ে পড়েছে বয়স্ক, শিশু, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষজন। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন।
বছরের প্রথম দিনে টাঙ্গাইলে ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডায় জেঁকে বসেছে শীত। সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে পড়েছে যমুনা পাড়ের হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও স্বল্পআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বাইরে বের হচ্ছেন না। শীতের দাপটে গ্রামাঞ্চলের অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা শেষে দুপুর ১টা পেরিয়ে গেলেও সূর্যের কোন দেখা মেলেনি। আকাশে ঘন মেঘ থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টা সূর্যের দেখা না মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। সামনে তাপমাত্রা আরও কমে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে শীতের প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে ঠান্ডা ও কুয়াশা বাড়তে পারে।
এদিকে জেলা ও উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমাজনিত রোগে শিশু ও বৃদ্ধরা ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কয়েকদিন শীত কম থাকলেও দু’দিন থেকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমাজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এজন্য শিশু-বৃদ্ধের খেয়াল রাখতে হবে, যাতে কোনো প্রকার ঠান্ডা না লাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক শিশু শীতজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

ভ্যানচালক এনামুল হোসেন বলেন, ঠান্ডায় কোনো লোকজন নেই, তাই ভ্যান নিয়ে বসে আছি। পরিবার চালানো অনেক কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঠান্ডায় কাজকাম করা যায় না। হাত গুটিয়ে আসে। খুবই কষ্টের মধ্যে আছি আমরা। কষ্ট হলেও নিজের জীবিকার তাগিদে ভোরেই ভ্যান নিয়ে বের হতে হয়েছে। আজ অনেক বেশি ঠান্ডা পড়েছে। এতো বেশি ঠান্ডায় অনেকেই ভ্যানে চড়তে চায় না। তবুও বের হয়েছি। পরিবার বাঁচানোর জন্য তো ভ্যান চালাতেই হবে। হুগড়া গ্রামের মানুষজন জানান, শীতের তীব্রতায় বিপাকে পড়েছে কৃষি শ্রমিক ও স্বল্প আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন। তীব্র ঠান্ডায় অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টাও করছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।






