
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শিক্ষা সফরের চারটি বাস ডাকাতির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ডাকাতদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা ও থানা পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নাটোরে শিক্ষা সফর শেষে ঘাটাইল থানায় এসে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে মামলা দায়ের করা হয়। ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামী করা হয়েছে। ডাকাতরা ১০টি মুঠোফোন সেট এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা লুন্ঠন করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘাটাইল থানায় উপস্থিত ছিলেন।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ঘাটাইল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ডাকাতির সাথে জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছে। ঘাটাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামলাটির তদন্ত করছেন। ডাকাতির সময় কোন শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটেনি বলে ওসি জানান।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও বিভিন্ন তথ্যদাতার (সোর্স) মাধ্যমে আসামীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘাটাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল খান জানান, এই ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে বুধবার সকালে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ৪টি বাস নিয়ে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নাটোরের একটি পার্কে শিক্ষা সফরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল-সাগরদীঘি সড়কের লক্ষণের বাধা এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় সেখানে রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে প্রতিব›দ্ধকতা সৃষ্টি করে ডাকাতরা। পরে তারা বাসে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুঠোফোন, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে। প্রধান শিক্ষক ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পাশবর্তী সাগরদিঘী তদন্ত কেন্দ্র থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শিক্ষা সফরে নাটোর চলে যায়।