স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে রাসেল (১৫) নামে এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় পরিবারের মধ্যে শোকের মাতন চলছে। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় সুষ্ঠ বিচারের দাবি করেছেন। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ প্রেমের বলি হয়েছেন রাসেল।
এদিকে এ ঘটনায় নিহতের ভাই বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে আত্মহত্যা পরোচনার অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ প্রেমিকা মারিয়াকে আটক করে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিহতের বাসার পাশেই প্রেমিকা মারিয়ার বাসা। স্থানীয় লোকজন নিহতের ছেলের বাসায় ভিড় করছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এমন মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। এর আগে গত বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকায় রাসেলের নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল সদর উপজেলার দরুন এলাকার চান মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরকীয়া ওই প্রেমিকাকে গাছে বেঁধে রাখে স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর থেকে মারিয়ার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, প্রেমের সম্পর্ক ছিল রাসেল ও মারিয়ার মধ্যে। মারিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে এক প্রফেসরের সঙ্গে। সেই সংসারে একটি ছেলে সন্তানও আছে তাদের। কিন্তু বিয়ের পরেও মারিয়া রাসেলের সাথে প্রেমের সর্ম্পক চালিয়ে যান। প্রথম পর্যায়ে মারিয়া তার স্বামীকে ছেড়ে রাসেলকে বিয়ে করবে বলে আশস্ত করে। কিন্তু পরে মায়িরা রাসলকে বিয়ে করবে না বলে জানায়।
এ নিয়ে মারিয়ার সাথে রাসেলের হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তা চলতে থাকে। গত (১ এপ্রিল) রাসেল প্রথমে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। কিন্তু পরে বুধবার (২ এপ্রিল) রাসেল মারিয়াকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে ঘরের জানালা ভেঙে রাসেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
আত্মহত্যার বিষয়টি জানাজানি হলে প্রেমিকা মারিয়াকে এলাকাবাসী আটক করে গাছের সঙ্গে বেধে রাখে। পরে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রেমের সর্ম্পকের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। মারিয়ার একাধিক ছেলের সাথে সর্ম্পক ছিলো।
নিহতের ভাই মোহাম্মদ সামি বলেন, মারিয়ার এক ছেলে সন্তান রয়েছে। মারিয়া বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে আমার ভাইকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এর আগেও ওই মেয়েটি অন্য ছেলেদের এমন কাজ করেছে। মারিয়া তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে আমার ভাইকে বিয়ে করার কথা বলেন। কিন্তু ঘটনার দিন মারিয়া আমার ভাইকে জানায় বিয়ে করবে না এবং তার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে পারবে না। আমার ভাইয়ের সাথে কোন সর্ম্পক রাখবে না। বিষয়টি মেনে না দিতে পারায় মারিয়াকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার পিছনে ওই মেয়েটির হাত রয়েছে।
নিহতের বোন তানিয়া বলেন, আমি ন্যায্য বিচার চাই। ভিডিও কলে আমার ভাইকে মরবার কইছে। ওই যদি ভালো মেয়ে হতো তাহলে আমার ভাইকে বাঁচাইতো। আমি ওই মেয়ের ফাঁসি চাই। নিহতের বাবা চান মিয়া বলেন, আমি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির দাবি করছি।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার (ওসি) তানবীর আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে মারিয়াকে আসামী করে আত্মহত্যা পরোচনার অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে প্রেমিকা মারিয়াকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়।