
নুরুল ইসলাম, দেলদুয়ার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে মাদকদ্রব্য ইয়াবা কিনতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছে পুলিশের এক কনস্টেবল। সে কালিহাতী থানা সার্কেলের দেহরক্ষি নাদের খান (২৮)। জনতা ওই পুলিশ কনস্টেবলসহ ৩ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে। এ ঘটনায় দেলদুয়ার থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নন্দন কুমার সরকার।
দেলদুয়ার থানা সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে রোববার (৩০ মার্চ) রাত পৌনে ১০ টার দিকে দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের কুপাখী গ্রামে চিহ্নিত মাদক কারবারী খায়রুল ইসলামের নিকট থেকে ইয়াবা কিনতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা খেয়েছিলেন। এ ঘটনায় ওই পুলিশ সদস্যসহ ৪ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, মোটরসাইকেল যোগে খায়রুলের বাড়ী থেকে ৫০ পিছ ইয়াবা ক্রয় করে ৩ যুবক ঘটনাস্থল ত্যাগ করছিল। গতিবিধি সন্দেহজনক হলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে দেলদুয়ার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাথুলি গ্রামের সচিন্দ্র চন্দ্র মন্ডলের পুত্র শুভ মন্ডল (১৯), কালিয়াকৈর থানার বড়ইবাড়ী গ্রামের মৃত শওকত খানের ছেলে নাদের খান (২৮), একই এলাকার নূর হোসেনের ছেলে ফরহাদ হোসেন সানিকে (২৯) তাদের আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে নাদের খান (২৮) কালিহাতী সার্কেল অফিসের দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য লিয়াকত হোসেন বলেন, কোপাখী গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে খায়রুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকদ্রব্য বিক্রয় করে আসছে। তার নিকট থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের মাদক কারবারীরা মাদক সংগ্রহ করে থাকেন। আমরা অন্তত ১টি চক্রকে হাতেনাতে ধরার জন্য রাত জেগে ওৎ পেতে ছিলাম। অবশেষে ধরতে পেড়েছি। তিনি আরও বলেন, খায়রুল এলাকায় একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তার বাড়ীর চতুরপাশে সিসি ক্যামেরা আওতাভূক্ত।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেব খান বলেন, খবর পেয়ে ঈদের জরুরী টহলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এস.আই নন্দন কুমারকে নির্দেশ দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ৫০ পিছ ইয়াবাসহ জনতার হাতে আটককৃত ৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মাদক আইনে মামলা দিয়ে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।