
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে ভুক্তভোগী স্বামী শাহ আলম এ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত প্রকাশ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বামী শাহ আলম বলেন, ৯ বছর আগে ভূঞাপুর পৌরসভার খাটান্দী এলাকার স্বপন কাজার মেয়ে মীম কাজীর সাথে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সংসার জীবন ভালোভাবে যাচ্ছিলো না। ইতিমধ্যেই আমার স্ত্রীর অনেক কুর্কম আমার নজরে আসতে থাকে। বিষয়টি আমার স্ত্রীর কাছে বার বার বলেও কোন লাভ হয়নি। বিয়ের পর থেকে আমার স্ত্রীকে আমাদের বাড়ীতে নিতে চাইলেও আমি নিতে পারেনি। বাধ্য হয়ে ঈদের দিনগুলোও আমাকে শশুর বাড়ীতে কাটাতে হয়।
এরই মধ্যে আমার স্ত্রীর সাথে বেশকয়েকজন ছেলের গোপনে যোগাযোগ রয়েছে বিষয়টি আমি জানতে পারি এবং হাতে নাতে কয়েকবার ধরেছি। আমি একটি এনজিওতে গোপালগঞ্জ কর্মরত থাকায় সে বাবার বাড়ীতে থেকে বিভিন্ন ছেলেদের সাথে যোগাযোগ করে অপর্কমগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টি আমার শশুর-শাশুড়ীসহ এলাকার অনেককেই জানাই। তারা বেশকয়েকবার শালিশ বৈঠক করে আমার স্ত্রীকে সতর্ক করে দিলেও সে ভালো না হয়ে আরো বেশী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন কথা কাটাকাটি শেষে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। কৌশলেই আমার রুমে ঢুকে দেখি স্ত্রী মীম ভূঞাপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহব্বায়ক আলমগীর হোসেনের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছে। পরে আমি ফোনটি আমার স্ত্রীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি এবং একটি পর্যায়ে দস্তাদস্তি শুরু হয়। এ সময় আমার স্ত্রী ও শাশুড়ী আমাকে মারার জন্য ঝাঁপিয়ে পরে। আমি তখন প্রাণের ভয়ে পাশের বাড়ীতে আশ্রয় নেই।
পরে এ নিয়ে ঈদের পরের দিন শালিশী বৈঠক হয়। এরই মধ্যে ভূঞাপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহব্বায়ক আলমগীর, তার ভাই ও সাঙ্গপাঙ্গরা আমাকে হুমকি দেয়। আমি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
পরবর্তীতে স্থানীয় একটি অনলাইনে আমার সত্য ঘটনাটি তুলে একটি নিউজ প্রকাশ হয়। সেই নিউজ প্রকাশ হওয়ায় দুটি টিভিতে আমার মূল কথাগুলো বাদ দিয়ে অপ্রসাঙ্গিক বক্তব্য তুলে ধরে আমার সত্য ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে তারা। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যে কোন মুহুর্তে আমাকে মেরে ফেলতে পারে এই চক্রটি। এজন্য ভাই আমি আপনাদের স্মরাপন্ন হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে শাহ আলমের মা শাহেরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।