
স্টাফ রিপোর্টার ॥
গ্রাম বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এমন কিছু পাখি, যাদের সৌন্দর্য শুধু চোখেই নয়, হৃদয়েও রেখাপাত করে। এমনই এক জলজ সৌন্দর্যের প্রতীক জলময়ূর। মূলত অনিন্দ্য সুন্দর এক বিরল প্রজাতির জলজ পাখি এটি। অনেকেই এই পাখিটিকে পানির রাজকন্যা বলে অবহিত করেন। বাংলার বিল-ঝিলে জলময়ূরের উপস্থিতি প্রকৃতিকে করে তোলে জীবন্ত ও ব্যঞ্জনাময়। ইংরেজিতে এই পাখিটিকে বলা হয় ‘পিজেন্ট-টেইল্ড যাকানা’।
জলময়ূর এক বিস্ময়কর পাখি। এই পাখিটির জীবনের গল্পেও আছে নাটকীয়তা, রহস্য এবং প্রকৃতির সাথে এক গভীর সখ্যতা। এ কারণে এ পাখির আরেক নাম ‘লতাপাদপের রানী’। পানির রাজকন্যা খ্যাত এই জলময়ূরের দেখা মিলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের রানাদহ বিলে। এ পাখির প্রজনন কাল জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
এ সময়ই টাঙ্গাইলের বিভিন্ন জলমহালে বেশি দেখা যায় জলময়ূর। বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে যেখানে জলজ উদ্ভিদ, বিশেষ করে কচুরিপানা, শাপলা, পদ্মবন এবং ঘন জলজ ঘাস রয়েছে প্রজননের সময় সেখানে জলময়ূরের আনাগোনা চোখে পড়ে। বড় বড় শাপলাপাতা কিংবা পদ্মপাতার ওপরে শুকনো ঘাস ও আগাছার স্তূপ করে এরা বাসা বানায়। সেখানে স্ত্রী পাখি ৪টি ডিম পেড়ে তার দায়িত্ব শেষ করে। পুরুষ পাখিটি এ সময় ২৫ দিন ধরে ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায়। ডিম ফোটার সাথে সাথে পাখির ছানাগুলো হাঁটা-চলা ও সাঁতার কাটতে পারে। দেড় মাস বয়স হলে ছানা উড়তে শেখে।
এ বিষয়ে ওয়াইন্ড ফটোগ্রাফার ও পাখি গবেষক কামাল হোসেন জানান, পাখিটি এখনো বিপন্নদের তালিকায় পড়েনি, তবে তার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এই রঙিন পাখিটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে জলাভূমি সংরক্ষণ এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
পাখিটির জীবনকাল ৪ থেকে ৫ বছর। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে জলজ উদ্ভিদের কচিপাতা, গুলা, বীজ, অঙ্কুর, পোকা, শুককীট, শালুক ইত্যাদি। জলময়ূর শুধু একটি পাখিই নয়, এটি আমাদের জলাভূমির জীব-বৈচিত্রোর এক অপরিহার্য অঙ্গ। এর সংরক্ষণ মানে প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষা করা। প্রকৃতির এই ভারসাম্যের সুর যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে সবার দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।






