
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিথী আক্তার নামে ২১ বছরের এক গৃহবধু একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মির্জাপুর কুমুুদিনী হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তানদের জন্ম দেন তিনি।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের আদাজান গ্রামের বাদল মিয়ার মেয়ে বিথীর সঙ্গে একই জেলার কালিহাতী উপজেলার বল্লা বাড্ডা গ্রামের সৌদি প্রবাসী নাজমুল ইসলামের বিয়ে হয়। সাত মাস আগে তিনি গর্ভধারণ করেন। গর্ভকালীন আলট্রাসনোগ্রামে তিন সন্তানের বিষয়টি জানা গেলেও প্রসবের পর চার নবজাতকের জন্মে পরিবারে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিথীর বাবা বাদল মিয়া বলেন, একসঙ্গে চার নাতি-নাতনি পেয়ে পরিবারের সবাই খুশি। তিনি চার নবজাতকের সুস্থতা কামনা করেন।
মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের গাইনি বিভাগের রেসিডেন্ট সার্জন ডা: মেহেরুন নেছা বলেন, সাধারণত গর্ভধারণের ৩৬ সপ্তাহ পর স্বাভাবিক প্রসব হয়ে থাকে। একসাথে চারটি বাচ্চা গর্ভধারণ একটি বিরল ঘটনা। যা ৫ লক্ষ ১২ হাজার গর্ভধারণে এটি এক বার ঘটে। এ ধরনের প্রেগন্যান্সি মা ও চিকিৎসকের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এতে শিশুর মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, রক্তশূন্যতা ও সময়ের আগে ডেলিভারির ঝুঁকি থাকে।
গত (৭ এপ্রিল) বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের যতুকী গ্রামের রতি সরকারের স্ত্রী আঁখি মন্ডল গর্ভধারনের আট মাসে ডেলিভারি ব্যথা নিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে আসেন এবং আল্লাহর অসিম রহমতে দ্রুততম সময়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চারটি বাচ্চা ডেলিভারি করিয়েছিলেন তিনি। এরমধ্যে গর্ভেই মারা যাওয়া একটি বাচ্চা প্রসব করান।
গত বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিথী আক্তার নামে এক গৃহবধুর ৩০ সপ্তাহে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। মা সুস্থ থাকলেও দুটি শিশুর ওজন এক কেজি, একটির ওজন ৯০০ গ্রাম ও আরেক শিশুর ওজন ৭০০ গ্রাম। এতে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে বলে চিকিৎসা চলছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে মির্জাপুর কুমুুদিনী হাসপাতালের উপ-পরিচালক অনিমেষ ভৌমিক লিটন বলেন, চার নবজাতকের ওজন এক কেজি ও তারও কম। তাদের সুস্থ রাখতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন।






