
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥
ফুটবলে গোল করতে সবাই গোলবারে শট নেয়। কিন্তু ঢাকা মোহামেডানের রাইটব্যাক টাঙ্গাইলের একসময়ের ফুটবল রত্ন গোবিন্দ চন্দ্র গোলবারে নয়, মেঘনা ফুটবল দলের গোলবারের সামনে ছোট্টপাসে বলটি রাখলেন। গোলবারমুখী ডিফেন্ডার উজ্জলের পায়ে লেগে গোলরক্ষক আল আমীনকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে যায়। ফাইনাল ম্যাচের দ্বিতীর্য়াধে কাঙ্খিত গোলটি পেয়ে ব্রহ্মপুত্র ফুটবল দল এগিয়ে যায়। গোল পরিশোধের চেষ্টায় উল্টো হতাশায় নিমজ্জিত মেঘনা ফুটবল দলের ডিফেন্স ভেঙে ব্রহ্মপুত্র দলের মতিউর খেলার শেষ দিকে আরো ১টি গোল করে (২-০) খেলায় জয় নিশ্চিত করে মর্নিং ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ন ম্যাচের অন্তিম মুর্হুতে মেঘনা দলের পক্ষে হান্ডবল সূত্রে পরিস্কার পেনাল্টি পাওয়া থেকে রেফারী হারুণের বির্তকিত সিদ্ধান্ত মেঘনা দলকে বঞ্চিত করে।
টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বৃষ্টিভেজা ভারী মাঠে ঈদগাহ ফুটবল এসোসিয়েশন আয়োজিত মর্নিং ফুটবলের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরষ্কার বিতরণ করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ন খেলায় দু’দলই নিজের ডিফেন্সকে শক্ত করে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করেন। মধ্যমাঠ তুলনামূলক মেঘনা দলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ব্রহ্মপুত্র ফুটবল দলের শক্তিশালী ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি। সংঘবদ্ধ আক্রমনের চেষ্টা ডিফেন্ডার আলহাজ ও গোলরক্ষক সুব্রত ধর দক্ষতার সাথে প্রতিহত করেন।

প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মেঘনা দলের ডিবক্সের বাইরে ফাঁকায় দাঁড়ানো গোবিন্দ চন্দ্র গোলবারে শট না নিয়ে গোলবারমুখী শট নিলে ডিফেন্স উজ্জলের পায়ে লেগে আত্বঘাতী গোল হয়। খেলায় পিছিয়ে পড়ে মেঘনা ফুটবল দল গোল পরিশোর্ধের আপ্রাণ চেষ্টা করলেও স্টাইকারদের ব্যর্থতায় তা বঞ্চিত হয়। উল্টো খেলার শেষ দিকে ফাঁকা মাঠে বল পেয়ে মতিউর গোল করে (২-০) ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়। ব্যবধান কমানোর সুযোগ মেঘনা দলের পেনাল্টির দাবী নাকচ করে দিলে ফলাফল পরিবর্তন হয়নি।
টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হয় ব্রহ্মপুত্র দলের সুব্রত ধর এবং ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় গোবিন্দ চন্দ্র দাস।
টুর্নামেন্টে ৮টি দল ২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীকে স্বরণে রেখে নদীর নামেই দলগুলো। “ক” গ্রুপে মেঘনা, লৌহজং, সুরমা ও পদ্মা এবং “খ” গ্রুপে ব্রহ্মপত্র, যমুনা, কর্ণফুলী ও ধলেশ্বরী।
দুই দলের খেলোয়াড়রা হলেন- ব্রহ্মপুত্র ফুটবল দল- ডাক্তার নজরুল ইসলাম, জাহিদ তারেক খান জুয়েল (অধিনায়ক), বজলুর রহমান, গোবিন্দ চন্দ্র সরকার, সুব্রত ধর, মতিউর, মিশু, আলহাজ, হালিম, ছানোয়ার, লিটন ও উৎপল কর্মকার।
মেঘনা ফুটবল দল- ডাক্তার হায়দার আলী (অধিনায়ক), ড. পিনাকী দে, ডাক্তার শরিফুল ইসলাম, ইফতেখারুল অনুপম, ডাক্তার আব্দুল্লাহ, আরিফ আকন্দ, সংগ্রাম, পবিত্র, আবু সুফিয়ান উজ্জল, হাবিব, আল আমিন কাজী, ইমতিয়াজ ও দরুল হুদা।
রেফারী- হারুন অর রশীদ, সহকারী রেফারী- মমিনুল ইসলাম ও মমিনুর রহমান।






