
আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল ॥
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সন্তান আব্দুল আজিজ খান অটল আজ এলাকার মানুষের কাছে নতুন প্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তরুণ বয়স থেকেই তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থেকে জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বিগত ১৯৯১ সালের (৩ নভেম্বর) টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের ডাকঘর কুশারিয়া, পাড়াকুশারিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। পিতা- আলমাছ খান এবং মাতা-আমিনা খানের স্নেহধন্য এই সন্তান ছোটবেলা থেকেই মেধাবী, পরিশ্রমী ও দৃঢ়চেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ব্যবসা পেশায় যুক্ত থেকেও তিনি সমাজসেবামূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং রাজনীতির মাঠে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাবল এমএ পাস করে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাকের পার্টির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে রাজনীতির হাতেখড়ি নেন।
বিগত ২০০৩ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাকের পার্টির সাথে সম্পৃক্ত হন এবং ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনৈতিতে সুনামের সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ময়মনসিংহ জাকের পার্টির ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি, জাকের পার্টি ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে বিগত ৫ বছর যাবৎ জাকের পার্টির টাঙ্গাইল জেলা পূর্ব সভাপতি হিসেবে আছেন যা তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণকে প্রমাণ করে।
আব্দুল আজিজ খান শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি একজন জনদরদী সমাজসেবকও বটে। সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে তিনি সবসময় দাঁড়িয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা, মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তিনি এলাকায় সুপরিচিত হয়েছেন। ছাত্র রাজনৈতিতে থাকা অবস্থায় কম্বল বিতরণ করেছেন। গরিব ছাত্র ছাত্রী দের বিনামূল্যে খাতা-কলম, পেনসিল বিতরণ, বিনামূল্যে তরকা রোগের ভ্যাকসিনসহ কৃষকের গরুর চিকিৎসা করানো, মানুষকে বিনামূল্যে বিনা ভিজেটে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পেইনসহ এতিম শিশুদের উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করাসহ আরো জনসেবামূলক কাজ করেছেন। ব্যবসায়ী হিসেবে তার সততা ও নিষ্ঠা তাকে আলাদা করে তুলেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনীতি মানে মানুষের কল্যাণ করা, সমাজ পরিবর্তন করা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করা।
রাজনীতিতে দীর্ঘ দুই দশকের অভিজ্ঞতা তাকে আজ টাঙ্গাইলের মাঠে একটি শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ কিংবা অন্যান্য দল যখন ক্ষমতায় থেকেও তৃণমূলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। তখন আব্দুল আজিজ খান সবসময় সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা ভেবেছেন। তার নেতৃত্বে টাঙ্গাইল জেলায় জাকের পার্টি নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সংগঠনকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করার জন্য তিনি প্রতিনিয়ত কর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আব্দুল আজিজ খান মনে করেন, রাজনীতির মূল শক্তি হলো জনগণের আস্থা। জনগণ যদি বিশ্বাস করে যে তাদের প্রতিনিধি সৎ, যোগ্য ও ত্যাগী, তবে তারা অবশ্যই তাকে নেতৃত্বে দেখতে চাইবে। তাই তিনি সবসময় সততা ও নিষ্ঠাকে জীবনের মূলনীতি হিসেবে মেনে চলেছেন। এলাকার মানুষও তাকে একজন সৎ, ত্যাগী ও নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে চেনে। তার মানবিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক অবদান এবং দলের প্রতি অগাধ নিষ্ঠা তাকে আজ টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের মানুষের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘাটাইল থেকে তিনি প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তিনি ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেছেন। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন, কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তিনি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়েছেন। তার ভিশন হলো ঘাটাইলকে একটি আধুনিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তরিত করা যেখানে মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে বসবাস করতে পারবে। দলীয় কর্মকাণ্ডে তিনি সবসময় সক্রিয় থেকেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে নির্ভীকভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং কখনো দমে যাননি। দলের দুঃসময়ে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন যা তার নেতৃত্বগুণকে আরও উজ্জ্বল করেছে। জাকের পার্টির প্রতি তার আনুগত্য, দলের কর্মীদের সংগঠিত করার দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি তাকে একজন পরীক্ষিত ও সফল রাজনীতিক হিসেবে প্রমাণ করেছে।
অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ও মিশুক স্বভাবের মানুষ। মানুষের সাথে মিশে থাকা, তাদের সমস্যার কথা শোনা এবং সমাধান করার চেষ্টা করাই তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গ্রামীণ সমাজে যখনই কোনো বিপদ-আপদ নেমে এসেছে। তখনই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এ কারণে এলাকার মানুষ তাকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়। বরং একজন সমাজসেবক হিসেবে বেশি জানে।
আসন্ন নির্বাচনে ঘাটাইল আসনে যদি তিনি মনোনয়ন পান। তবে এটি হবে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা। জনগণ বিশ্বাস করে, আব্দুল আজিজ খান নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবেন। তার সততা, নিষ্ঠা ও ত্যাগ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। তিনি আজ টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসনের মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
তার রাজনৈতিক দর্শন স্পষ্ট। মানুষের সেবা করাই রাজনীতির মূল কাজ। তিনি সবসময় বলেন, আমি জনগণের প্রতিনিধি হতে চাই, তাদের কণ্ঠস্বর হতে চাই, তাদের দুঃখ-দুর্দশার সাথী হতে চাই। তার এই কথায় এলাকার মানুষ আস্থা খুঁজে পায়, কারণ তারা জানে তিনি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সততার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তা তাকে জনমনে অমর করে তুলেছে। তার পুরো জীবনকথা এক সংগ্রাম, এক ত্যাগ এবং এক অনুপ্রেরণার গল্প। ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক নেতা সব পরিচয়ের সমন্বয়ে আব্দুল আজিজ খান আজ ঘাটাইল আসনের মানুষের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছেন।






