স্টাফ রিপোর্টার, দেলদুয়ার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে দুই ভাইয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ বিরোধ সম্প্রতি চরমে পৌছলে তাহার বাহামভূক্ত লোকজন নিয়ে স্কুল শিক্ষক বড় ভাইয়ের বাড়ীর রাস্তায় বেরিকেট সৃষ্টি করেছে। এতে ওই শিক্ষক পরিবার নিজ পৈত্রিক ভিটায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। উপজেলা সদর ইউনিয়নের রূপশী গ্রামে ঘটেছে ঘটনাটি। শনিবার (৪ অক্টোবর) এ ঘটনাটি ঘটলেও রোববার (৫ অক্টোবর) বিকেলে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ওই ভূক্তভোগী শিক্ষক।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার শিকার পরিবার ও প্রতিবেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রূপশী গ্রামের মৃত ফটিক মিয়ার ছেলে শাফিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক পানাউল্লাহ্ মিয়া ও তার ছোট ভাই নির্বাচন কমিশনের সাবেক উপ পরিচালক সালামত মিয়ার সঙ্গে বাড়ীর জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধ নিয়ে গ্রাম্য সালিশও হয়েছে কয়েক দফা। কিন্তু সালিশের কোনও সিদ্ধান্তই সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা সালামত মিয়া মানেন নি।
সালিশে উপস্থিত মাতাব্বর নিশান মিয়া জানান, শুক্রবার (৩ অক্টোবর) আমরা গ্রামবাসী বৈঠকে বসে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সে সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সালামত উল্লাহ্ ৩০/৪০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে পানাউল্লার বাড়ীর রাস্তায় টিন দিয়ে বেরিকেট দিয়েছে। ঘটনাটি অমানবিক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, সালামত উল্লাহ্ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন কমিশনে চাকুরী করার সুবাদে শেখ হাসিনা সরকারকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ক্ষমতায় বসিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থনৈতিক সুবিধা হাসিল করেছেন। ওই অবৈধ টাকায় এলাকায় কমপক্ষে ৩০ একর জমি ক্রয় করে কোটিপতি বনে গেছেন। ওই সময় চাকুরী দেওয়ার নামেও এলাকার লোকজনের নিকট থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাবেক এই নির্বাচন কর্মকর্তা।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে ২০১৮ ও ১৯ সালে আদালতে সি.আর মামলা হয়েছিলো। যার নম্বর যথাক্রমে ২২৯ ও ১৮০। আপন চাচাত ভাই মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের সঙ্গেও সালামত উল্লাহ্র জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বড় ভাই পানাউল্লাহ্ ও চাচাত ভাই মাসুদুর রহমানের বিরোধকে কেন্দ্র করে সালামত উল্লাহ্ ৩ দফায় ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৪ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন। ৩টি অভিযোগেই আদালতের রায় সালামত উল্লাহর বিপক্ষে যায়। রায় বিপক্ষে যাওয়ায় ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করতে বিগত ২০২৪ সালের (২৪ সেপ্টেম্বর) মাসুদুর রহমানের একটি কড়ই গাছ কেটে নিয়ে চৌচালা টিনের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় সালামত উল্লাহর নেতৃত্বে তার বাহামভূক্ত লোকজন। এ সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান রয়েছে।
মাসুদুর রহমান বলেন, সালামত উল্লাহ্ পর সম্পদ লোভী, প্রতারক এবং দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকালে তিনি প্রচুর কাচা টাকার মালিক হন। ওই টাকার দাপটে তিনি এলাকায় ধারাকে সরাজ্ঞান মনে করে চলেন। এলাকায় অগনিত অপকর্মের সঙ্গে তিনি জরিত। চাকুরী দেওয়ার নামেও তিনি এলাকার নিরীহ বেকার যুবকদের নিকট থেকে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া বিগত ২০০৩ সালে দিন দুপুরে আলোচিত সাদেক হত্যা মামলারও তিনি ৬নং আসামি ছিলেন।
শালিসে উপস্থিত দেলদুয়ার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, পানা উল্লাহ্ ও সালামত উল্লাহ্ দুই ভাইয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধে একাধিকবার বসেছি। কিন্তু ছোট ভাই সালামত উল্লাহর খামখেয়ালিপনার কারণে সুষ্ঠু সমাধানে আসা যায় নি। সে স্থানীয় শালিসের কোনও সিদ্ধান্তই মানেন না।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে সালামত উল্লাহ্র সঙ্গে মোঠফোনে যাগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যে জায়গার উপর বেরিকেট দিয়েছি। তা আমার শরিকের নিকট থেকে ক্রয় করা। অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে পাশ কাটিয়ে যান।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেব খান বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু বিষয়টি জায়গা-জমি সংক্রান্ত, সেহেতু তাদের দুই ভাইকেই আদালতের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।