
স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রোলার মেশিন (রাস্তা সমান করার যন্ত্র) ভাড়ার মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের জেলাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করেছে- যা তাদের এ বছরও ‘দেশ সেরা’ অবস্থান নিশ্চিত করেছে। একই খাতে টাঙ্গাইল এলজিইডি গত চার অর্থবছর ধরে টানা প্রথমস্থান অধিকার করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ল্যারেটরী টেস্ট খাতেও রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এই অর্জনের কারণ হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঠিক তত্ত্বাবধান ও তদারকি এবং সম্মিলিত কার্য পরিচালনা (গ্রুপ ওয়ার্ক) করায় এ রেকর্ড সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল এলজিইডির অধীনে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে দুই হাজার ৬৭৮ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের বিপরীতে ১৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে দুই হাজার ২৮৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের ৮২ শতাংশ (গড় হার) সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৮ কোটি ৬৭ লাখ ৩১ হাজার ৭২৬ টাকা সড়ক উন্নয়নের বিপরীতে রোলার ভাড়ায় রাজস্ব আয় হয়েছে দুই কোটি ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩৩ টাকা।
সূত্র মতে, রোলার ভাড়ায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে ৩৭ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭৪ টাকা সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩১ লাখ ২২ হাজার ২৪৮ টাকা। আগস্ট মাসে ৫ কোটি ৬ লাখ ৮২ হাজার ২০০ টাকার উন্নয়ন কাজের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৫ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে ১৬ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯২৫ টাকার বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮ লাখ ১২ হাজার ৫১৭ টাকা। অক্টোবর মাসে ১৯ কোটি ৩৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯৭৭ টাকার বিপরীতে ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬২ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। নভেম্বর মাসে ১৫ কোটি ৭৭ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯৮ টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ টাকা। ডিসেম্বর মাসে ১২ কোটি ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ১১ লাখ ৪৬ হাজার ২১৭ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৩৯ কোটি ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৫ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩৪১ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে ২৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯৭ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৬ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। মার্চ মাসে ২৮ কোটি ৪১ লাখ ৩২ হাজার ৩৮৪ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৪৩ লাখ ৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। এপ্রিল মাসে ২২ কোটি ৪৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬১০ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছে ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮৫ টাকা। মে মাসে ২৫ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার ৬৫৭ টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এ অর্থ বছরের শেষ অর্থাৎ জুন মাসে ৩৩ কোটি ৮ লাখ ২৬ হাজার ৪৪০ টাকা সড়ক উন্নয়ন ব্যয়ের বিপরীতে রোলার ভাড়ায় ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৯ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।

এলজিইডির বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টাঙ্গাইল এলজিইডির ফোরম্যান খুবই তৎপর। রাস্তার কাজের জন্য রোলার মেশিন চাইলে তিনি আশপাশে থাকা মেশিনই কাজের সাইটে পাঠিয়ে দেন। এতে রোলার মেশিনের জন্য কাজ বন্ধ রাখতে হয় না। বাড়তি খরচও গুনতে হয়না। তারা রোলার মেশিনের সার্ভিস নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট।
টাঙ্গাইল এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) বিপ্লব হোসেন জানান, টাঙ্গাইল এলজিইডি রোলার মেশিন ভাড়া দিয়ে ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড সৃষ্টি করছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে দেশের জেলাগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে। এরআগে একটানা ২০২৩-২৪, ২০২২-২৩, ২০২১-২০২২ এবং ২০২০-২০২১ অর্থ বছরেও রোলার মেশিন ভাড়ায় রাজস্ব আয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করে। তিনি আরও জানান, নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে রোলার মেশিনগুলো সব সময় সচল রাখা এবং কোন রোলার মেশিন বিকল হলে দ্রুতই মেরামত করে কাজের উপযোগী করা এবং ঠিকাদাররা চাওয়া মাত্র রোলার মেশিন রাস্তায় পাঠানোর কারণে এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, রোলার মেশিন ভাড়া এবং ল্যাবরেটরী টেস্ট ফি আদায়ে টাঙ্গাইল এলজিইডি ধারাবাহিকভাবে নজির সৃষ্টি করেছে। সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা টিমওয়ার্কের মাধ্যমে দিনের কাজ দিনে করার নীতি গ্রহণ করায় এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। আগামি দিনগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল এলজিইডি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৪৬ কোটি ৪৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ের বিপরীতে রোলার মেশিন ভাড়ায় রাজস্ব আয় হয় চার কোটি ৩০ লাখ ৯৩ হাজার ৬০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত ২৬১ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৯০৬ টাকার উন্নয়ন কাজের বিপরীতে দুই কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৩ টাকা রাজস্ব আয় হয়। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ১৭৯ কোটি ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১ টাকার উন্নয়ন কাজের বিপরীতে রোলার মেশিন ভাড়া দিয়ে এক কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ৬৭২ টাকা রাজস্ব আয় করে। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ১৬৬ কোটি ৯৫ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৭ টাকার উন্নয়ন কাজের বিপরীতে এক কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬৯ টাকা রোলার মেশিন ভাড়ায় রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে রেকর্ড সৃষ্টি করে।






