
স্টাফ রিপোর্টার, কালিহাতী ॥
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার প্রিয় মুখ আজ যেন স্তব্ধ। একটি নাম উচ্চারণেই বুক ভেঙে আসে দীর্ঘশ্বাস-আরিফুর রহমান ফারুক। বিদ্যালয়ের মাঠ, স্টাফ রুম, শ্রেণিকক্ষ, সহকর্মীদের চোখ-সবকিছুতেই যেন ভাসছে তাঁর স্মৃতি। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৫ মিনিটে ঢাকার বারডেম হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফসাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি………রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, মা এবং বড় ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মী রেখে গেছেন। যারা আজ তাঁর স্মৃতির ভারে নুইয়ে আছে।
জানা যায়, বিগত ১৯৯৯ সালে কালিহাতী আর এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তিনি শুধু শিক্ষক ছিলেন না। ছিলেন একজন পথ প্রদর্শক, অভিভাবক, নির্ভরতার আশ্রয়। প্রায় ২৬ বছরের শিক্ষকতায় তিনি যে ভালোবাসার বীজ বপন করে গেছেন, তার ফল আজ হাজারো কণ্ঠে কান্না হয়ে ফিরে আসছে। বিগত ২০২১ সালের নভেম্বরে হৃদরোগ ধরা পড়ে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে তাঁর হৃদপিণ্ডে রিং বসানো হয়। কিন্তু ভাগ্য সেখানেও থেমে থাকল না। বিগত ২০২২ সালের মে মাসে আবার বুকে প্রচণ্ড চাপ অনুভব করলে ল্যাবএইড হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করা হয় এবং তাঁকে বাইপাস সার্জারি করতে হয়।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে আবারও একই ব্যথা ফিরে আসে। ইউনাইটেড হাসপাতালে কার্ডিওলজিস্টের শরণাপন্ন হন তিনি। এরপর শুরু হয় আরেকটি অধ্যায়-পেটব্যথা। টাঙ্গাইল সোনিয়া ক্লিনিকে গ্যাস্ট্রলোজিস্ট ডাক্তারের অধীনে ৪ দিন চিকিৎসার পর পিত্তথলিতে ইনফেকশন ধরা পড়ে। পরে গত (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন। ইনফেকশনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকাকালীন শেষ পর্যন্ত সেই যন্ত্রণার সঙ্গেই বিদায় নেন তিনি গত (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৫ মিনিটে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার সময় তার জানাজায় কালিহাতী আর এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মানুষের ঢল নামে। হাজারো মুখে একই কথা, “স্যার আর ফিরবেন না!” সেই স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাজা। যাঁদের কাঁধে নিয়ে গেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে, সেই মানুষের জানাজায় দাঁড়িয়েছিল তারাই- ছাত্র, সহকর্মী, এলাকাবাসী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত। পরে তাঁর নিজ জন্মভূমি সালেংকা মধ্যপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জানাজা। অশ্রুসিক্ত দোয়ায় বিদায় জানানো হয় তাঁকে এবং সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় চিরনিদ্রায়।
এদিকে মাঠে যত অশ্রু ঝরেছে, তারচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফেসবুক জুড়ে চলছে স্মৃতি চারণা। সবাই এক বাক্যে স্মরণ করছেন- হাস্যোজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, চারিত্রিক সৌন্দর্যের প্রতিমূর্তি, আদর্শবান ও অনুপ্রেরণাদায়ক শিক্ষক ছিলেন তিনি। তাঁর চলে যাওয়ায় কালিহাতী যেন হারালো এক আলোক বর্তিকা।






