
সাদ্দাম ইমন ॥
শীতের আগাম সবজিতে টাঙ্গাইলের কাঁচাবাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কৃষকের ধানকাটা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সুসংবাদ দিচ্ছে চালের দামেও। গত সপ্তাহের তূলনায় প্রতি কেজি সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। চালের দাম কমেছে ২ থেকে ৪ টাকা। তবে ক্রেতাদের এ স্বস্তি ম্লান করে দিয়েছে পেঁয়াজ। গত সপ্তাহের চেয়ে কেজি প্রতি ৪০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে এই নিত্যপণ্যটি। শনিবার (৮ নভেম্বর) টাঙ্গাইল শহরের কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। গত সপ্তাহে এ দাম ছিল ৭০ থেকে ৯০ টাকা। কেজিতে অন্তত ১০ টাকা কমে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, গাজর ১২০ টাকা। এছাড়া মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ছোট আকারের ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস, বড় আকারের ফুলকপি ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস ও লাউ ৩০ থেকে ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।
খুচরা বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, করল্লা, বরবটি, বেগুন, পটোল প্রভৃতি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এসব সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি ছিল। কেজিতে ৪০ টাকা কমে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে। পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, দেশি শসা ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।
খুচরা বাজারে প্রতি আঁটি লাল শাক ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক ১০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও ডাঁটা শাক ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। লেবুর হালি ২০ থেকে ৪০ টাকা, ধনেপাতা কেজিতে ৫০ টাকা কমে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে দেখা যায়, ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা, ৫০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি শিং ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি-টেংরা ১৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। বাজারগুলোতে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। খাসির মাংস প্রতি কেজি ১২০০ টাকা। সোনালি কক মুরগি কেজিতে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।
এছাড়া এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, হাঁসের ডিম ২১০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।বিক্রেতারা জানান, খুব শীঘ্রই বাজারে আসছে আমন ধানের নতুন চাল। ফলে পুরানো চালের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। খুচরা বাজারে গত সপ্তাহের চেয়ে চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৪ টাকা কমেছে। মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও বিআর ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে। মোটা ধরনের ব্রি২৮ চালের দাম স্থির রয়েছে আগের মতোই কেজিপ্রতি ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। তবে ক্রেতাদের মাথায় হাত পেঁয়াজের দামে। খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ আগে বাজার ও মানভেদে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। বাজার পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর তথ্য বলছে এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ৫৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে এখন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছাড়িয়েছে ১০৮ থেকে ১১০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগে পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল মাত্র ৭২ থেকে ৭৪ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, ইন্ডিয়ান ১৮০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা ও খেসারির ডাল ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।






