স্টাফ রিপোর্টার, কালিহাতী ॥
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ কামরুন্নাহারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জিনাত আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে ডাঃ কামরুন্নাহারকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটা থেকে প্রায় ৪ ঘন্টারও অধিক সময় জরুরী বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ কামরুন্নাহার উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ ছাড়াই এবং কাউকে কিছু না জানিয়েই অনুপস্থিত থাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।
জরুরী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুন্নাহারের ডিউটি নির্ধারিত থাকলেও তিনি দায়িত্বে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি বিকেল পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি। এ সময় জরুরী বিভাগের ডাক্তার কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা কটু মিয়া নামের একজন রোগী ৮ নভেম্বর দুপুর ৩ টার দিকে মৃত্যুবরণ করলে ডাঃ কামরুন্নাহার অনুপস্থিত থাকায় তাকে দেখার জন্যও কেউ ছিলেন না।
এ বিষয়ে ডা. কামরুন্নাহারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. জিনাত আলম সাংবাদিকদের বলেন, কেন তিনি দায়িত্বে ছিলেন না- সে বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, জরুরী বিভাগে সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কেউ না থাকলে নিয়মানুযায়ী আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারুক হাসান শাফিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কালিহাতী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার চেয়ে অবহেলাই বেশি দেখা যায়। ডাক্তার পাওয়া যায় না, জরুরী সময়ে কেউ দায়িত্বে থাকেন না। এ সময় তারা বলেন, একটি উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিকিৎসক না থাকা চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা হুমকির মুখে পড়ছে।