
স্টাফ রিপোর্টার ॥
নিত্যপণ্যের বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম সেভাবে কমছে না। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়, যা গত বছর এই সময়ে ৫০-৬০ কিনেছেন ভোক্তারা। একইভাবে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, আলু, মুলা, শালগমসহ বেশিরভাগ সবজি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে নতুন উঠা আলু পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। মানভেদে প্রতিকেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়। অন্যদিকে পুরাতন আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া দাম স্থিতিশীল রয়েছে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, মুরগি ও ডিমের দাম। টাঙ্গাইলের বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত দেশি মাছের সরবরাহ থাকলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এছাড়া গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনি বাজার, সিটি বাজার, আমিন বাজার ও সন্তোষ বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, শালগম, মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের শীতের সবজি আসতে শুরু করেছে। দিন দিন সবজির সরবরাহও বাড়ছে। তবে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় সবজির দাম এখনো বেশি। বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে উৎপাদন এলাকাতেই সবজির দাম বেশি। কারণ, কৃষকেরা আগাম চাষ করা নতুন সবজির ভালো দাম পাচ্ছেন। এছাড়া গত অক্টোবর মাসে বৃষ্টির কারণে কৃষকদের কিছু সবজি নষ্ট হয়েছিল। ফলে এখন বেশি দামে বিক্রি করে সেই আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন তারা। এসব কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারেও সবজির দাম বেশি। সাধারণত প্রতিবছর শীতের শুরুতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা, শিম ৪০-৬০ টাকা, মুলা ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হয়। সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমে আসে। বর্তমানে প্রতি কেজি টমেটো ১২০-১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ, করলা ও বরবটি ১০০-১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০-৮০ টাকা, পটোল ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দামও তুলনামূলক বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।
বাজারে এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০-১২০ টাকা। এক মাস ধরে এ দামেই খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রাখতে পণ্যটি আমদানির দাবি জানিয়ে আসছিলেন আমদানিকারকেরা। বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০-৩০০ টাকা ও প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল ও চালের সরবরাহ কিছুটা কম রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। দেশি মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। শীতের এই সময়টাতে বোয়াল, আইর ও শোল মাছের চাহিদা থাকে বাজারে। কিন্তু এবার মাছের দাম অনেক বেশি। এছাড়া বাজারগুলোতে ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ ১০০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ১৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা ও ১ কেজি ওজনের ২৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে ১ কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, রুই দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়া চাষের পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা, ইন্ডিয়ান ১৮০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা ও খেসারির ডাল ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, হাঁসের ডিম ২১০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া বাজারগুলোতে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।






