
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জমি সংক্রান্ত মামলায় হেরে ভয় দেখিয়ে এক নারীকে দিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়েরের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় হাসিনা বেগম নামে ওই নারী মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে মির্জাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাসিনা বেগম। এ সময় গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার হেলাল, কলিমাজানী গ্রামের হযরত আলী, সুজন মিয়া, শরীফ ও ফারুক উপস্থিত ছিলেন।
মির্জাপুর থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা বেগম বলেন, উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গন্ধব্যপাড়া হাবু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে দিনমজুরের কাজ করেন তিনি। গোড়াই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার বিল্লাল হোসেন জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুবাধে তার সাথে পরিচয়। গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সোহাগপুর বাজারে গেলে বিল্লাল হোসেন তার হাতে একটি চিরকুট ও ৩ হাজার টাকা দিয়ে বলেন কলিমাজানি গ্রামের সাবেক মেম্বার হেলাল, হযরত আলী, সুজন, শরিফ, ফারুক মিয়ার নামে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিতে হবে।
এজন্য তাকে মোটা অংকের টাকা দেয়া হবে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এ প্রস্তাবে রাজি না হলেও বিল্লাল চিরকুট ও টাকা রেখে পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে চলে যান। এরপর পুণরায় বিল্লাল তাকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলার বাদী হওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। এতেও রাজী না হলে বিল্লাল হোসেন তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলাকা ছাড়া করার ও খুন জখমের ভয় দেখান।
গোড়াই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার হেলাল উদ্দিন বলেন, বিল্লাল হোসেন অবৈধভাবে এক নিরীহ ব্যক্তির সম্পত্তি দখল করার পায়তারা করছিলেন। এ নিয়ে মামলা মোকদ্দমা হলে আমি ওই নিরীহ ব্যক্তিকে সহযোগিতা করায় বিল্লাল মেম্বার আমার প্রতি ক্ষিপ্ত ছিলেন। আমাকে ফাঁসানোর জন্যই তিনি এমন জঘন্য ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছেন।
বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে কথা হলে বলেন, ওই নারী আমাদের এলাকায় ভাড়া থেকে মাদক ব্যবসা করেন। তাকে নিষেধ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করছেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার (ওসি) আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






