
স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারিতে আহত হন মতিয়ার রহমান (৫৩)। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ছাড়পত্র দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রোগীর ছাড়পত্রে গুলিতে আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন ডাক্তার। এ ঘটনায় মতিয়ার রহমানের ছোট ভাই মজিবর রহমান ১০ জনকে আসামী করে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এই মারামারির ঘটনা ঘটে গত (১৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের দেওভোগ গ্রামে।
এদিকে ডাক্তারের দেয়া ওই রোগীর ছাড়পত্রে গানশর্ট ইঞ্জুরি উল্লেখ থাকায় শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ডাক্তার রুবায়েতের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রোগীকে ওয়ার্ডে দেখতে গেলে অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করেন। পরে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা এবং ছাড়পত্র দেয়া হয়। সেই ছাড়পত্রে গানশর্ট ইনঞ্জুরি লেখা হয়েছিলো। ভূলবশত ছাড়পত্রে গানশর্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে আহত মতিয়ারের ভাই মজিবর রহমান ডাক্তারের ছাড়পত্র নিয়ে মির্জাপুর থানায় ১০ জনের নাম ও গুলির কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন। আহত মতিয়ার রহমান দেওভোগ গ্রামের বলিয়ার রহমানের ছেলে। আহত মতিয়ার রহমান বর্তমানে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ খান বলেন, জমির ঘটনা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। তবে গুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, মতিয়ার রহমানকে মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বাবুল আক্তার ভর্তি করেছিলেন। সন্ধ্যায় তার অবস্থার অবনতি ঘটলে ডাক্তার রুবায়েত ছাড়পত্র দেন। ভর্তির রেজিস্টার্ড না দেখেই গানশর্ট ইঞ্জুরি লিখে ছাড়পত্র দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন। গানশর্ট ইঞ্জুরি উল্লেখ করার আগে কর্তব্যরত চিকিৎসকের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিলো।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






