
স্টাফ রিপোর্টার ॥
বেলা গড়ালেও সূর্যের দেখা নেই টাঙ্গাইল জেলায়। ঘন কুয়াশার সঙ্গে কনকনে তীব্র শীত। হিমেল বাতাসে জবুথবু জনজীবন। তবু জীবন থেমে থাকার নয়। শীতের কাপড় পরে বাইরে বের হয়ে পড়েন কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় যমুনা ও ধলেশ^রী নদীতে নৌযানগুলো সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছে। মধ্য পৌষে জেঁকে বসছে শীত। প্রকৃতিতে বইছে হিমেল হাওয়া। এতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো টাঙ্গাইল জেলাতেও বেড়েছে শীতের তীব্রতা। মারাত্মক প্রভাব পড়েছে জনজীবনে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, শীতের এমন তীব্রতা থাকবে আরও ৪ থেকে ৫ দিন। দিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি তীব্র হচ্ছে। আগামী (৭ জানুয়ারির) পর তাপমাত্রা বাড়তে পারে। শীতের তীব্রতার পাশাপাশি টাঙ্গাইলে শৈত্যপ্রবাহের মতো অবস্থা বয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) টাঙ্গাইল জেলায় তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
এদিকে তীব্র শীত ও কুয়াশার দাপটে অসহায় অবস্থায় পড়েছে দিনে এনে দিনে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষেরা। তাদের রুজি-রোজগার কমে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করে অনেকেরই কাজকর্ম জুটছে না। শীত থেকে রক্ষা পেতে অনেকে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। শীতের তীব্রতায় টাঙ্গাইলে জমে উঠেছে গরম কাপড়ের ব্যবসা। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শপিংমলে শীতের কাপড়ের বেচাকেনা বেড়েছে। পাশাপাশি কাপড়ের পাইকারি বাজারগুলোও জমজমাট। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে এবার শীতের সময়ে টাঙ্গাইলে হাজার কোটি টাকার শীতবস্ত্রের বিকিকিনি হবে।
শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগও। আক্রান্ত হচ্ছেন সব বয়সি মানুষ। বিশেষ করে শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আসা শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের প্রকোপে বেড়েছে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, গত দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে শিশু রোগী ভর্তির সংখ্যা শয্যার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। যাদের বেশিরভাগেরই বয়স একদিন থেকে চার বছর পর্যন্ত।






