স্টাফ রিপোর্টার ॥
দেশজুড়ে চলমান তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে টাঙ্গাইলের নিত্যপণ্যের বাজারে। নতুন বছরের শুরুতে মাছের বাজারে দামের চাপ বাড়লেও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ক্রেতারা বলছেন, মাছের দাম এতোটাই চড়া যে, দরদাম করার সুযোগ প্রায় থাকছে না, তবে মুরগি ও ডিমের দাম কমায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল পৌর শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনী বাজার, সিটি বাজার, আমিন বাজার ও সন্তোষ বাজার এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মের এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা মাসখানেক আগেও ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় কিছুটা কম।
এদিকে মাংসের বাজারে অবশ্য দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়। বিক্রেতাদের মতে, শীতকালে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে খামারিরা দ্রুত মুরগি বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন, ফলে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কম রাখা সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে মাছের বাজারে এখনও স্বস্তির কোনো আভাস নেই। বাজারে কোরাল মাছ প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ও সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
চিংড়ির দামও তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। বড় আকারের চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা, আর দুই কেজি ওজনের ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে ২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত।
মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, শীতকালে নদী ও জলাশয়ে মাছ ধরা কমে যাওয়ায় আড়তে দাম বেড়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।
বাজারে মাছ কিনতে আসা চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, মাছের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। গত সপ্তাহে যে মাছ কম দামে পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। বাজারের আরেক ক্রেতা সেলিম রেজা জানান, মাছের দাম দ্রুত কমার কোনো লক্ষণ নেই, আর মুরগির দাম আরও কমলে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বাড়ত।