
স্টাফ রিপোর্টার ॥
মানবিকতা আর পেশাগত দক্ষতার অনন্য মেলবন্ধনে যিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি অধ্যাপক ডা. মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহেল কাফি। দেশের খ্যাতনামা গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই মানুষটি এবার জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক ডা. কাফি সংগঠনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে জনগণের সেবার বৃহত্তর পরিসরে নিজেকে নিয়োজিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। চিকিৎসাক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নৈতিক অবস্থান তাঁকে রাজনীতির মাঠে একটি ব্যতিক্রমী পরিচয় এনে দিয়েছে।
চিকিৎসা পেশায় আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহেল কাফি দেশের গ্যাস্ট্রোলিভার চিকিৎসায় সুপরিচিত নাম। জটিল রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি অসংখ্য দরিদ্র ও অসহায় রোগীকে বিনামূল্যে বা স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। রোগীর কাগজের ফাইলে নয়, মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলাই তাঁর চিকিৎসা দর্শনের অংশ। এমনটাই বলেন তাঁর সহকর্মী ও রোগীরা। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর পরিচিতির বড় শক্তি হলো আস্থা। শহর থেকে গ্রাম, বিত্তবান থেকে শ্রমজীবী সব শ্রেণির মানুষই তাঁকে দেখেন একজন নির্ভরতার নাম হিসেবে।
সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই টাঙ্গাইল-১ মধুপুর ও ধনবাড়ী আসনের গ্রামগঞ্জে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন ডা. কাফি। তিনি শুধু বক্তব্য রাখেন না; মনোযোগ দিয়ে শোনেন মানুষের কথা। কৃষকের ফসলের দুশ্চিন্তা, তরুণের কর্মসংস্থানের সংকট, নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন। স্থানীয়রা জানান, একজন চিকিৎসক হিসেবে যেমন তিনি ধৈর্য নিয়ে রোগীর কথা শোনেন, ঠিক তেমনই একজন রাজনীতিক হিসেবেও মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনছেন গভীর মনোযোগে। গণসংযোগে অধ্যাপক ডা. কাফি বারবার তুলে ধরছেন ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার। তাঁর ভাষায়, “চিকিৎসা যেমন মানুষের জীবন বাঁচায়, রাজনীতি তেমনি মানুষের জীবনকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করার মাধ্যম হওয়া উচিত।”
উপস্থিত জনগণ তাঁর সহজ-সরল আচরণ, অহংকারহীন উপস্থিতি এবং মানুষের প্রতি আন্তরিকতায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, রাজনীতিতে এমন মানবিক পেশাজীবীর অংশগ্রহণ সময়ের দাবি। প্রত্যাশার প্রতীক মানবিক চিকিৎসক হিসেবে যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা তিনি অর্জন করেছেন। সেটিই এখন তাঁর রাজনৈতিক শক্তির মূল ভরকেন্দ্র। অধ্যাপক ডা. মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহেল কাফিকে ঘিরে টাঙ্গাইল-১ আসনে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা একজন প্রতিনিধি, যিনি ক্ষমতার নয়, মানুষের পাশে থাকার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।
মানুষ এখন দেখছে, স্টেথোস্কোপ হাতে জীবন রক্ষাকারী এই মানুষটি সংসদে গেলে হয়তো জনতার কণ্ঠস্বর হিসেবেই পরিচিত হবেন। ছাত্রজীবন থেকে সংগ্রামের পথে অধ্যাপক ডা. মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহেল কাফির জীবনপথ কখনোই সহজ ছিল না। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত থেকে আদর্শিক রাজনীতির চর্চা করেন। সেই সময় থেকেই নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানুষের কল্যাণকে জীবনের মূল দর্শন হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি।
মেডিকেল কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি বিদেশে যান এবং গ্যাস্ট্রোলিভার বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। একজন দক্ষ চিকিৎসক ও বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হলেও সেই পথ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
অন্যায়ের কাছে আপস না করার মূল্য স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সময়কালে তৎকালীন দুর্নীতিবাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নির্দেশে তাঁকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘অর্থদাতা’ হিসেবে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। যার পেছনে কোনো প্রমাণ ছিল না বলে তাঁর সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠরা দাবি করেন। নৈতিকতা ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে তিনি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলশ্রুতিতে একজন মেধাবী চিকিৎসক ও বিসিএস ক্যাডার হয়েও তাঁকে বাধ্য হয়ে সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে হয়। ব্যক্তিগতভাবে এটি ছিল তাঁর জন্য বড় ত্যাগ; তবে আদর্শের প্রশ্নে তিনি কোনো ছাড় দেননি।
ত্যাগ থেকেই নেতৃত্বের জন্ম। অনেকে মনে করেন, এই ত্যাগই আজকের অধ্যাপক ডা. কাফিকে আরও দৃঢ় ও মানবিক করেছে। সরকারি ক্ষমতার সুযোগ না নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পথ বেছে নেওয়াই তাঁকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে। চাকরি হারালেও তিনি হারাননি মানুষের ভালোবাসা। বরং সেই ভালোবাসাই আজ তাঁকে রাজনীতির ময়দানে এনে দাঁড় করিয়েছে। স্থানীয় জনগণের ভাষায়, “যিনি ক্যাডার হয়েও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি, তিনিই সংসদে গেলে আমাদের পক্ষে কথা বলবেন।” মানবিক চিকিৎসক, আদর্শিক সংগ্রামী ও ত্যাগী মানুষ হিসেবে অধ্যাপক ডা. মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহেল কাফি টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে এক ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক প্রত্যাশার নাম। যেখানে ক্ষমতার চেয়ে মূল্যবোধই মুখ্য।






