
বিশেষ রিপোর্টার ॥
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে সাতজনই কোটিপতি। একটি আসনের প্রার্থী কোটিপতি নন, তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ অন্য সব প্রার্থীদের থেকে বেশি।
এছাড়াও টাঙ্গাইলে মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির দুই ভাইস চেয়ারম্যানসহ তিন কেন্দ্রীয় নেতার স্ত্রীর সম্পদ স্বামীদের প্রায় দ্বিগুণ।
মনোনয়নপত্রের সাথে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন যারা-
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসির, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৫ (টাঙ্গাইল সদর) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আওয়াল লাভলু, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান।
বিএনপির আট প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষন করে দেখা যায়, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিনের নগদ, বিভিন্ন ব্যাংকে জমা ও স্থায়ী আমানত সবচেয়ে বেশি। তার রয়েছে ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮১ টাকা। তার স্ত্রী সায়মা পারভীন সিম্মির রয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৮ টাকা। পেশায় ব্যবসায়ী সুলতান সালাউদ্দিন সর্বশেষ আয়কর রির্টানে বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৭ টাকা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ২ কোটি ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৬ টাকা। অপরদিকে তার স্ত্রীর বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৮ টাকা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৩২৫ টাকা। মামলার সংখ্যাও সুলতান সালাউদ্দিনের সবচেয়ে বেশি। বিগত ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ২৩৮টি মামলা হয়েছে। তবে সবগুলো মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু। সর্বশেষ আয়কর রির্টানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার ৬২৬ টাকা। তিনি আয় দেখিয়েছেন ১৭ হাজার ৭৫৫ টাকা। অপরদিকে তাঁর স্ত্রী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিলকিস বেগমের সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৭ লাখ ১ হাজার ৮৬০ টাকা। তাঁর বাৎসরিক আয় ১৪ লাখ ২৯ হাজার ২৩ টাকা।
একই চিত্র টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে মনোনয়প্রাপ্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানের। আহমেদ আযম খানের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬১ হাজার ১৩৯ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ টাকা। অপরদিকে তাঁর স্ত্রী নার্গিস সিদ্দিকা। যাঁর পেশা উল্লেখ করা হয়েছে কর্পোরেট চেম্বার প্র্যাকটিস। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ৬৬২ টাকা। তাঁর বাৎসরিক আয় ২৩ লাখ ৫ হাজার ২৭৬ টাকা দেখানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত দলের কেন্দ্রীয় শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর আয় সম্পদ থেকে তাঁর স্ত্রীর আয় ও সম্পদ কয়েকগুণ বেশি। আয়কর রির্টানে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী তাঁর বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭১২ টাকা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৫৮ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৭ টাকা। অপরদিকে তাঁর স্ত্রী ফাতেমা আজাদের আয় দেখিয়েছেন ৯৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৯ টাকা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৪২ টাকা।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আওয়াল লাভলু পেশায় ব্যবসায়ী। আয়কর রির্টানে দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৬০ হাজার ৪২২ টাকা। সম্পদের পরিমাণ ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৮২ টাকা। অপরদিকে তাঁর শিক্ষক স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের বার্ষিক আয় ও সম্পদ স্বামীর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। মনোয়ারা বেগমের বাৎসরিক আয় ২৪ লাখ ৫০ হাজার ২৪৪ টাকা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার ৫৬৫ টাকা।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৯২ লাখ ৬৫ হাজার ৩৪২ টাকা। তাঁর বাৎসরিক আয় ২২ লাখ ৭৭ হাজার ৮৫০ টাকা। অপরদিকে তাঁর স্ত্রী রেশমা আনামের সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫৮ লাখ ৮ হাজার ১৮৬ টাকা। তাঁর বাৎসরিক আয় ১৩ লাখ ১১ হাজার ২৫০ টাকা। তাঁরা দুইজনেই পেশায় ব্যবসায়ী।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের প্রার্থী এস এম ওবায়দুল হক নাসির পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর স্ত্রী সরকারি চাকুরীজীবী। ওবায়দুল হক নাসিরের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৯ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ২৪ লাখ ৩০ হাজার ২০৭ টাকা। তাঁর স্ত্রী রিনাত ফৌজিয়ার সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার ২০৭ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৭ টাকা।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের মনোনয়নপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য লুৎফর রহমান মতিনের সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪২২ টাকা। তাঁর বাৎসরিক আয় ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৯ টাকা। লুৎফর রহমান মতিনের ২২ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী।






