
স্টাফ রিপোর্টার, কালিহাতী ॥ বীরমুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনৈতিক নেত্রী কমরেড হাজেরা সুলতানার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বাদ আসর টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ছাতিহাটি গ্রামের ফুটবল মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মান প্রদান করেন। এ সময় কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে ও এম তৌফিক আজম উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম), বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূর আহমেদ বকুল, টাঙ্গাইল জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি গোলাম নওজব চৌধুরী পাওয়ার এবং কালিহাতী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক থানা কমান্ডার মিজানুর রহমান মজনু।
এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কমরেড হাজেরা সুলতানা ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৭৫ বছর।
তিনি বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আজীবন তিনি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, নারী অধিকার ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ছাতিহাটি গ্রামে জন্ম নেওয়া হাজেরা সুলতানা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি বাম রাজনৈতিক ধারার বিকাশে কাজ করেন এবং জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে সংসদে ভূমিকা রাখেন।






