স্টাফ রিপোর্টার, কালিহাতী ॥
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় এক গৃহবধূকে ফুসলিয়ে নিয়ে ধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ও ছবি ধারণের অভিযোগে লম্পট রাজু আহম্মেদকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার সিলিমপুর চাটিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ‘স’ মিলের সামনে অভিযুক্ত রাজু ওই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও স্থানীয়দের দেখায়। এ সময় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে রাজু আহম্মেদকে (৩০) মারপিট করে আটক করে। এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত (৭ জানুয়ারি) রাতে কালিহাতী উপজেলার সিলিমপুর চাটিপাড়া গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে রাজু আহম্মেদ (৩০) একই এলাকার এক গৃহবধূকে মোবাইল ফোনে ডেকে তার স্বামীর বাড়ির সামনে থাকা একটি পরিত্যক্ত রাইচ মিলে নিয়ে যান। পরে কৌশলে তাকে অন্য স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ভিকটিমের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।ঘটনার পর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত যুবক রাজু আহম্মেদ ওই নারীকে বাগুটিয়া ব্রিজের রেখে চলে যায়। পরে ভিকটিম একজন অটোরিকশা চালকের সহায়তায় মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এসে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। ভিকটিম কালিহাতী উপজেলার ছিলিমপুর চাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত রাজু আহম্মেদ ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে ভিকটিমকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখা হলেও সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে সিলিমপুর চাটিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ‘স’ মিলের সামনে অভিযুক্ত রাজু ওই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও স্থানীয়দের দেখাতে থাকে। এ সময় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারপিট করে আটক করে।
খবর পেয়ে কালিহাতী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত রাজু আহম্মেদ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌফিক আজম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে আদালতে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ওই নারীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।