
গোপালপুর সংবাদদাতা ॥
নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব অপরাধ উপদ্রব বন্ধে করণীয় নিয়ে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) উপজেলা প্রশাসন জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান।
জানা যায়, সম্প্রতি পৌর শহরের সমেশপুর মহল্লায় এক শিক্ষকের বাসায় ডাকাতি হয়। পুলিশ ডাকাতির ঘটনায় মামলা নিলেও কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। প্রতি রাতেই গরু চুরি যাচ্ছে। শহরের বাসা-বাড়ি, দোকানপাটেও চুরি যাচ্ছে। মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ সব ধরনের গৃহস্থালী সামগ্রী চুরি হচ্ছে। বৈদ্যুতিক মোটর, হস্তচালিত নলকূপের হ্যান্ডেল, স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদের ফ্যান খুলে নিয়ে যাচ্ছে। সেচ স্কীমের বৈদ্যুতিক মিটার প্রতি রাতেই চুরি যাচ্ছে। নাগরিকদের অভিযোগ এসব চুরির সাথে সংঘবদ্ধ দুবৃর্ত্ত এবং মাদকসেবীরা জড়িত। এদের উপদ্রবে বাসাবাড়ির দরজা-জানালা খোলা যায় না। ঘটিবাটি, জামা, জুতো, বালতি থেকে শুরু করে সব ধরনের গৃহস্থালি সামগ্রী নিয়ে যায়।। সন্ধ্যার পর উপজেলা শহর ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে হচ্ছে ছিনতাই ও চুরি।
উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত জরুরী সভায় বক্তব্য রাখেন গোপালপুুর সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর হারুন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নবাব আলী, থানার ওসি (তদন্ত) সালাউদ্দীন আহমেদ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর হাবিবুর রহমান, ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রমুখ।
উপজেলা সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর হারুন জানান, নির্বাচনের সামনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির যে কোন চেষ্টা কঠোর হাতে দমণ করা হবে। গোপালপুর থানার (ওসি তদন্ত) সালাউদ্দীন জানান, থানা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করছেন। দুস্কৃতকারিদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। পুলিশের সাথে সেনাবাহিনীর টহলও চলছে। উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
এ বিষয়ে সভার সভাপতি ও গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরি বন্ধে পুলিশের সাথে সেনাবাহিনীও যৌথভাবে কাজ করছেন।






