
কাজল আর্য ॥
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম সমর্থন দিয়েছেন। এতে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অতি সম্প্রতি সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের বিশেষ কর্মীসভায় বঙ্গবীর সমর্থন ঘোষণা করেন। এছাড়াও তার টাঙ্গাইল শহরের বাসায় সাংবাদিকদেরও এ তথ্য জানিয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে তাঁর বড়ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে তিনি সমর্থন দেন। সেলক্ষে আসন্ন নির্বাচনে তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার এ সমর্থনে আসন দুটিসহ জেলার অন্য আসনগুলোর নির্বাচর্নী মাঠে প্রভাব পড়তে পারে বলে অনেকের ধারণা।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, যেহেতু আমরা দলীয়ভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যায় নাই- আমাদের কোনকিছু করা উচিত না। তারপরও আমি ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচন করতে চাই। যেহেতু দাড়িয়াপুরের চেয়ারম্যান আসিফকে গ্রেপ্তার করিয়েছে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান। আবার তাকে জেল থেকে বের করেও এনেছে আহমেদ আযম খান। এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটাক্ষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তার সমর্থকরা সখীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবীবের ওপর হামলা করেছে। তাঁর এই ধরণের অপকর্ম বন্ধ করতে আমি টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের নির্বাচন করতে চাই। এছাড়া গত রমজান মাসে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ইফতার মাহফিল করতে না দেওয়ার ঘটনাকেও তিনি আহমেদ আযম খানের বিরোধিতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বঙ্গবীর আরও বলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে দলীয় প্রার্থী আহমেদ আযম খান নিজেকে ‘বাতেন বাহিনীর’ মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাসাইল-সখীপুরে কাদেরিয়া বাহিনী ছাড়া কারো অস্তিত্ব ছিল না। তিনি চরম মিথ্যাবাদী। আমি মিথ্যাবাদীকে কখনো সমর্থন করতে পারি না। মহান আল্লাহও মিথ্যাবাদীকে ঘৃণা করেন। আহমেদ আযম খান পাকিস্তানি হানাদারদের চেয়ে খারাপ। আমি তারেক রহমানের ধানের শীষের নির্বাচন করতে যেতে পারি। কিন্তু ভুলেও আহমেদ আযম খানের নির্বাচনকে সমর্থন করবো না।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা তারেক রহমানের পক্ষে জাতীয় রাজনীতিতে অবস্থান নিলেও এই আসনে আহমেদ আযম খানের বিরোধিতা করব। তিনি এমপি হলে বাসাইল-সখীপুরের উন্নয়ন হবে না। বরং এলাকার ও আমাদের দলের ক্ষতি হবে। সে কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল এমপি হলে অন্তত আমাদের ক্ষতি হবে না।
কাদের সিদ্দিকী তার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, সংসদে যাতে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা যায়- এজন্য আমি বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছি। এতে আমার রাজনীতি থাকুক আর নাই থাকুক। আমি নির্বাচনে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলার জন্য কালিহাতীতে প্রচারণায় সাপোর্ট দিয়েছি।
এর আগে কাদের সিদ্দিকীর টাঙ্গাইলের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন টাঙ্গাইল-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শফিকুল আসলাম খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল।
এদিকে সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজিব সম্প্রতি ব্যক্তিগত অসুবিধা উল্লেখ করে সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাকে বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খানের সাথে একমঞ্চে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে।






