স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের দুইবারের সাবেক এমপি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রতিদ্বন্দ্বি দুই নবীন প্রার্থী। নবীন প্রার্থীরা হলেন- জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির তোফাজ্জল হোসেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের দুই প্রার্থী ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফলে এই আসনে এখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন জনে। তারা হলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও দুইবারের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, জামায়াতে ইসলামী টাঙ্গাইল জেলা কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির তোফাজ্জল হোসেন।
তিনজনের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী বিগত ১৯৯৬ সালের (১৫ ফেব্রুয়ারি) ও (১২ জুনের) নির্বাচনে এই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বিগত ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মরহুম একাব্বর হোসেনের কাছে পরাজিত হন। তিনি ছাত্র রাজনীতি করে তৃণমূল থেকে উঠে আসা অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদ। তিনি এ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন পেয়ে পাঁচবার নির্বাচনে অংশ নেন এবং দুইবার নির্বাচিত হন। ফলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী নির্বাচনে কতটুকু ভালো করতে পারবেন, এটিই এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন নতুন হলেও দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জোরেসোরে প্রচার চালাচ্ছেন। এলাকায় তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী এখনও ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দল তাঁকে মনোনয়ন দিলেও শেষ মুহূর্তে তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হয়েছেন। তিনি মূলত তাঁর গ্রামের কিছুসংখ্যক লোক নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে মাঝে মধ্যে কিছু বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, সব মিলিয়ে বিএনপি প্রার্থী আজাদ সিদ্দিকীর জনপরিচিতির পাল্লাই সবচেয়ে ভারী।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মহসীন বলেন, বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী দুইবার এমপি হয়েছেন এবং পাঁচবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকে উপজেলার গ্রামাঞ্চল চষে বেড়িয়েছেন। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। অন্য দুই প্রার্থী এবারই প্রথম নির্বাচন করছেন। সবদিকেই বিএনপি প্রার্থীর পাল্লা ভারী বলে তিনি মন্তব্য করেন। সদরের পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা জিয়ারত খান বলেন, অভিজ্ঞ হিসেবে বিএনপি প্রার্থীই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।
রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি ন্যায় এবং ইনসাফের পক্ষে কাজ করছি। জনগণ আমার পক্ষে রায় দেবে বলে আশা করছি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন এ উপজেলায় তার দলের প্রায় ৬০ হাজার কর্মী রয়েছে দাবি করে বলেন, নতুন প্রার্থী হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। নির্বাচনে ভালো ফলাফলের আশা করছেন তিনি।
বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, ছাত্র জীবন থেকে মানুষের জন্য রাজনীতি করে আসছি। এলাকার মানুষ ১৭ বছর ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এই নির্বাচনে সুযোগ এসেছে। মানুষ আমাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করবে।